ভোরের স্নিগ্ধতায় দুই পাশের দৃশ্য বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠল। সবুজে মোড়ানো চারপাশ। খালপাড়ের একটি নির্জন পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের গাড়ি। একটি মোড় ঘুরে ডানে বাঁক নিতেই মনে হলো ব্যতিক্রমী কোনো একটা রং যেন চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে গেল। চালককে দ্রুত গাড়ি থামাতে বলি। গাড়ি থেকে নেমে খানিকটা পেছনে এসে যে দৃশ্যের মুখোমুখি হই, তা ছিল কল্পনাতীত। এমন নির্জন একটি স্থানে এই হৃদয়গ্রাহী দৃশ্যের মুখোমুখি হব ভাবিনি। ফুলভর্তি ঝোপের কাছে গিয়ে মুগ্ধতার ঘোর আর কাটে না। এ যেন ফুলের সমুদ্র! ডালপালা, শাখা-প্রশাখা কানায় কানায় পূর্ণ। ফুলের এমন স্নিগ্ধ শোভা দেখে মনটাও ভরে গেল। অনেক দিন পর কোনো দুষ্প্রাপ্য ফুলের অবারিত উচ্ছ্বাস প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হলো। ফুলটির নাম কাবিয়া বা কেপার। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ গ্রন্থের তথ্যমতে, এই গাছ দেশের বাগেরহাট, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর, ঝালকাঠি, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, নওগাঁ, পাবনা, রাজশাহী ও টাঙ্গাইল জেলায় প্রাকৃতিকভাবে জন্মে। সে হিসেবে এখানে গাছটির অবস্থান ব্যতিক্রমী কিছু নয়। ব্যতিক্রম হলো, প্রাকৃতিক আবাসে এখনো রীতিমতো লড়াই করে টিকে আছে গাছটি।
কাবিয়া (Capparis zeylanica) বড় ধরনের গুল্মশ্রেণির গাছ, ২ থেকে ৮ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কখনো কখনো আরোহী বা অনেক দূরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ডালপালা কাঁটায় ভরা। তরুণ অবস্থায় শাখা–প্রশাখা মরিচা বা ধূসর কোমল রোমাবৃত। পাতা সবৃন্তক, ৫ থেকে ২০ মিমি লম্বা, রোমশ, ডিম্বাকার বা উপবৃত্তাকার। ফুল অক্ষীয় সারিতে বিন্যস্ত, সাদা ও সুদর্শন, সাড়ে ৩ থেকে ৫ সেমি আড়াআড়ি, পুষ্পবৃত্ত রোমশ, ফলে অতিরিক্ত স্ফীত এবং ৩ সেমি পর্যন্ত দীর্ঘায়ত। পাপড়ি দেড় থেকে ২ সেমি, সাদা, ভেতরের ১টি লালাভ দাগযুক্ত, যা পরবর্তী সময়ে বেগুনি লালে বিবর্ণ, দীর্ঘায়ত, গোলাকার, কোমল রোমাবৃত, অর্ধ–অখণ্ড বা তরঙ্গিত।