চে বলিভিয়ায় সৈন্যদের হাতে ধরা পড়েন। তাঁকে মেরে ফেলা হয়েছিল। ঢাকার কোনো পত্রিকায় এ নিয়ে কোনো সংবাদ ছাপা হয়েছিল কি না, মনে নেই। এ দেশের কমিউনিস্টরা তখন চে গুয়েভারাকে তেমন গণ্য করতেন না। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে চে গুয়েভারা ও তাঁর সহকর্মীরা যে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছিলেন, তার ফলে তাঁদের কপালে একটা তকমা বা গালি জুটেছিল—‘ট্রটস্কিপন্থী’, অর্থাৎ খুব খারাপ লোক। দ্য রেমিনিসেন্স অব অব দ্য কিউবান রেভল্যুশনারি ওয়ার বইটি কিউবার বিপ্লবী আন্দোলন নিয়ে লেখা। ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে একদল তরুণ গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে স্বৈরাচারী ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালাল বাতিস্তা সরকারকে উত্খাত করে দুনিয়াজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। চের ওই বই পড়ে অনেক শব্দের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলাম—রেইড, অ্যাম্বুশ, বুটিট্র্যাপ, স্নাইপিং ইত্যাদি।
দুই শতাধিক বিপ্লবী যোদ্ধা ‘গ্রানমা’ নামের একটা নৌকায় করে মেক্সিকো থেকে কিউবায় যাওয়ার পথেই বিমান হামলায় অনেকেই নিহত হন। যাঁরা বেঁচে ছিলেন, তাঁরা আবার সংগঠিত হয়ে দুই বছরের মধ্যেই স্বৈরাচারের পতন ঘটান। এ রকম বই এর আগে পড়িনি। বইটি মনে দাগ কেটেছিল। মনে আছে, এ নিয়ে পরে একটা কবিতা লিখেছিলাম। তার শেষ অংশটুকু ছিল এ রকম:
হঠাৎ এই শহরে এলেন
চে গুয়েভারা
পেঙ্গুইনের পেপারব্যাকে মোড়া
স্মৃতিজাগানিয়া দুটো বছর
গ্রানমার পালে হাওয়া লেগে
তরি এসে ভিড়ল আমার
বুকের ঠিক মাঝখানটায়
নেশা ধরে গেল রক্তে।
আমি বুঝলাম, কেন সুকান্ত লেখেন
‘আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ’।
সে এক প্রবল জোয়ার
আমাকে ভাসিয়ে নেয়
বিপ্লবের সামনের কাতারে।