একসময় সিলেটের অধিকাংশ সরকারি কার্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাস থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আসাম-আদলে নির্মিত হতো। এসব স্থাপনার অনেকগুলো এখনো সগৌরব টিকে আছে। এ ছাড়া প্রায় বনেদি পরিবারেই আসাম-আদলে আধপাকা বাড়ি প্রচুর নির্মিত হয়েছে। সিলেট শহরের কাষ্টঘর, হাওয়াপাড়া, চালিবন্দর, তাঁতীপাড়া, শাহি ঈদগাহ, আম্বরখানা, বিমানবন্দর সড়ক, দরগাগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনো অনেক আসাম বাড়ি দেখা যায়। বৃহত্তর সিলেটের চার জেলার বিভিন্ন গ্রামেও এমন বাড়ির সন্ধান মেলে।
সিলেটের গোলাপগঞ্জের রনকেলি নুয়াপাড়া গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, ১৯৩০ সালে তাঁর দাদা প্রায় ৮ হাজার বর্গফুট জায়গার ওপর আসাম-আদলে বাড়ি বানিয়েছিলেন। টিলার ওপরের ওই বাড়ির সামনে উঠান, আসাম-আদলে একটা বৈঠকখানাও রয়েছে। তিন পুরুষ ধরে বাড়িটিতে বসবাস করছেন তাঁরা, এর মধ্যে কেবল কয়েক দফা সংস্কার করতে হয়েছে। পুরোনো এই বাড়ি দেখতে এখন অনেকেই ভিড় করেন।
আসাম বাড়ির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষক কৌশিক সাহা বললেন, বাড়িগুলো বৃহত্তর সিলেট ও আসামের নিজস্ব স্থাপত্যরীতি। সিলেট ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা, তাই এসব বাড়ি এখানে একসময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। মূলত বাংলা ও আসাম অঞ্চলের লোকজ স্থাপত্যের সঙ্গে ব্রিটিশদের কিছু কারিগরি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাড়িগুলো তৈরি করা হয়েছিল।
ভূমিকম্প সহনশীল কাঠামো ও সহজলভ্য উপাদান ব্যবহার করে তৈরি আসাম-আদলে বাড়িগুলো অনেক টেকসই ও পরিবেশবান্ধব। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সিলেটের এই বিশেষ ঐতিহ্য আজ হুমকির মুখে। কৌশিক সাহার আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণের ব্যবস্থা না নিলে এখনো যেসব বাড়ি টিকে আছে, সেগুলোও বিলীন হয়ে যাবে। সিলেটি ঐতিহ্যের বিশেষ এই স্থাপত্যরীতি টিকিয়ে রাখতে এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের উত্সাহিত করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
লেখাটি বর্ণিল বসত মে ২০২৪–এ প্রকাশিত