উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, প্রায় ছয় বছর দুই দফা সংসদ সদস্য থাকাকালে ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে দলের অনেক কর্মী-সমর্থকের দূরত্ব তৈরি হয়। কিছু নেতা-কর্মী তাঁর বিরুদ্ধে এককাট্টা রয়েছেন। এ কারণেই এবার তাঁর আসনে ৯ নেতা দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ফরহাদ হোসেন মনোনয়ন পেলেও দলের নেতাদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ঘোচেনি। তাঁদের মধ্যে ছয়জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী একরামুজ্জামানকে (কলার ছড়ি) সমর্থন দিয়েছেন। ফলে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেও একরামুজ্জামান নির্বাচনী মাঠে প্রভাব ফেলতে পেরেছেন।
এদিকে গত ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাহনুল করিমও স্বতন্ত্র প্রার্থী একরামুজ্জামানকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তাঁরা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিরোধিতা করে প্রকাশ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে সরব হয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী থাকলেও এ আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস দেখছেন ভোটাররা। এই দুই পক্ষের একাধিকবার প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ভোটের পরিবেশ উত্তপ্ত হচ্ছে।
গতকাল রোববার নির্বাচনী এলাকা ঘুরে অন্তত ১৫ ভোটারের সঙ্গে কথা হয়। ভোটাররা বলছেন, আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি নির্বাচন বর্জন করছে। কিন্তু বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ থেকে বহিষ্কৃত নেতা একরামুজ্জামান এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপির দায়িত্বশীল কিছু নেতা বাদে অধিকাংশ নেতা-কর্মীই একরামুজ্জামানকে নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। পাশাপাশি উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান একরামুজ্জামানকে সমর্থন দিয়েছেন। এমনকি তাঁর পক্ষে কেন্দ্রে ভোটার টানতে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরাও মাঠে সরব।