নাগরিক জীবনের বিচ্ছিন্নতা, পড়াশোনার চাপ, খেলাধুলা, সুস্থ বিনোদনের অভাব ইত্যাদির কারণে বর্তমানে শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা স্ট্রেস বা চাপের মধ্যে থাকে। বেশির ভাগ শিশু স্ট্রেস অনুভব করে, যখন তারা কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে না। এর মধ্যে আছে বয়ঃসন্ধির শুরু, স্কুলে পরীক্ষা ও অত্যধিক বাড়ির কাজ, বন্ধুদের সঙ্গে ও সামাজিকতা রক্ষায় সমস্যা, বড় কোনো পরিবর্তন (যেমন বাড়ি বা স্কুল বদল, মা-বাবার বিচ্ছেদ), দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, পরিবারে আর্থিক সমস্যা ইত্যাদি। অল্প পরিমাণে স্ট্রেস শিশু ও বড়দের জন্য ভালো হতে পারে, যেমন পরীক্ষা বা বক্তৃতা ভালো করে দেওয়ার জন্য তাদের অনুপ্রাণিত করে। তবে স্ট্রেস যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন তা একজন ব্যক্তির মেজাজ, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা এবং সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আমরা কি শিশুদের জীবনে ক্রমবর্ধমান চাপ এবং তা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে কীভাবে প্রভাবিত করছে, সে বিষয়ে সচেতন?
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অনুযায়ী, যদি কোনো শিশু ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করে অথবা নিজেকে বা অন্য কাউকে আঘাত করতে চায়, তাহলে অবিলম্বে মনোরোগ চিকিৎসকের সহায়তা নিতে হবে। এর পাশাপাশি কিছু উপসর্গ সম্পর্কে মা-বাবা ও অভিভাবকেরা সচেতন থাকলে সঠিক সময়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব। শিশুদের ক্ষেত্রে নিচের লক্ষণগুলো দেখলে মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, যাতে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করতে পারেন—শিশু যদি ঘন ঘন রেগে ওঠে অথবা বেশির ভাগ সময় তীব্রভাবে খিটখিটে হয়, প্রায়ই ভয় বা উদ্বেগের কথা বলে, কোনো কারণ ছাড়া বারবার পেটব্যথা বা মাথাব্যথা সম্পর্কে অভিযোগ করে, সব সময় অস্থির থাকে এবং চুপ করে বসে থাকতে না পারে, খুব বেশি কিংবা কম ঘুমায়, দুঃস্বপ্ন দেখে, অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে আগ্রহী না হয় অথবা বন্ধুত্ব করতে না পারে, পরীক্ষায় হঠাৎ খারাপ ফল করে ইত্যাদি।