সুন্দরবনের কালাবগী ফরেস্ট স্টেশন হয়ে শিবসা নদী দিয়ে প্রায় ২২ কিলোমিটার নিচে নদীর পূর্ব পাড়ে প্রাচীন স্থাপনার ধ্বংসস্তূপ ঘিরে গাবগাছের বাগানের অবস্থান। এর একটু দূরে বাঁয়ে মোড় নিয়ে ঢুকে পড়া যায় সুন্দরবনের শেখের খাল ও কালীর খালে। এই দুই খালের মধ্যবর্তী স্থানটি শেখেরটেক নামে পরিচিত। বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে একটি মন্দির। বহু বছর ধরে মন্দিরটি লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও, এবার তা পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করেছে বন বিভাগ। মোগল আমলে নির্মিত ওই মন্দির ঘিরে তৈরি করা হয়েছে শেখেরটেক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র। এটি সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের ১৬ নম্বর কম্পার্টমেন্ট এলাকার আওতাভুক্ত।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিষয়ের অধ্যাপক এম এ আজিজের লেখা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ইতিহাস বইয়েও সুন্দরবনের মধ্যে ওই স্থাপনাগুলোর কথা উল্লেখ রয়েছে। তিনি লিখেছেন, সম্ভবত ১৫৯৭ খ্রিষ্টাব্দে সুন্দরবন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেন বার ভূঁইয়ার অন্যতম রাজা প্রতাপাদিত্য। সুন্দরবনের বনদস্যু মগ-ফিরিঙ্গি দমনে সুন্দরবনের শিবসা নদীর পাড়ে প্রতাপাদিত্য একটি দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেন। শিবসা নদীসংলগ্ন শেখের বাড়ি ও কালীর খালের দক্ষিণে মন্দির এলাকা এই দুর্গের অধীন ছিল। তবে অনেকের মতে, শেখের বাড়ি ও মন্দির ঘিরে যেসব ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে দেখা যায়, সেগুলো রাজা প্রতাপাদিত্যের বহু আগেই স্থাপিত হয়েছিল।