শুধু আমরাই যে একত্র হয়ে কাজ করেছি, তা কিন্তু নয়। ছাত্র-জনতা ও নানা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যেমন রেড ক্রিসেন্ট, জাতীয় তরুণ সংঘ, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি মিলে এই শহরকে নিরাপত্তা দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে লুট হয়ে যাওয়া জিনিস উদ্ধার, সারা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ এবং শহরকে দেয়ালচিত্র দিয়ে সাজানোর কাজ করেছি। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এক হয়ে কাজ করার ফলে খুব অল্প সময়ে শহরের পরিস্থিতি অনুকূলে আনা সম্ভব হয়েছে।
প্রথম থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ন্যায্য দাবিতে আমরা একমত ছিলাম। কিন্তু দেশব্যাপী আন্দোলনে ছাত্রদের যখন গুলি করে মারা হলো, ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে সারা দেশে ক্র্যাকডাউন করা হলো, আরও আরও মৃত্যুর খবর আসতে লাগল—তখন আর বসে থাকা গেল না। আগস্টে আমরাও রাজপথে নেমে গেলাম। আন্দোলনে নেমে উপলব্ধি করলাম যে সময়টা ধরে রাখা প্রয়োজন। ২০২৪-এর এই আন্দোলন একটি গণ-অভ্যুত্থান। আমাদের অনেক ঘটনার ইতিহাস বিকৃত হয়ে গেছে। এর আগে আমরা আমাদের ইতিহাসকে যথাযথভাবে আর্কাইভ করতে পারিনি বলে অনেক সময় ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে এবং সত্য তথ্যও মুছে গেছে। এই ইতিহাসটা যেন ঠিকঠাক থাকে, সেই কারণে আমরা ফুটপ্রিন্ট ফিল্ম প্রোডাকশন থেকে রাজশাহীর আন্দোলন এবং তার পরবর্তী অবস্থা ভিডিও আর্কাইভ করছি। মাঠে-ঘাটে কাজ করে আমাদের অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমরা মানুষের সঙ্গে একেবারে মিশে যেতে পেরেছি। আরও গভীরে গিয়ে সমস্যা দেখতে পেরেছি।
‘সেভ রাজশাহী’ একেবারে সময়ের প্রয়োজনে হয়েছে। ইতিমধ্যে এটা এমন একটা মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে যে এখানে কেউ সমস্যার কথা বললে সবাই তার সমাধানে ছুটে যায়। কঠিন এ পরিস্থিতি শেষ হলে এটা কীভাবে কাজ করবে, কী পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাবে, সেটা ‘সেভ রাজশাহী’র সদস্যরা সময়ের তাগিদেই ঠিক করবেন। নতুন বাংলাদেশ নির্মাণে আমাদের একত্র থাকতে হবে এবং একত্রে কাজ করে যেতে হবে।
লেখক: ‘সেভ রাজশাহী’র অন্যতম উদ্যোক্তা ও চলচ্চিত্রনির্মাতা