ধানমন্ডিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্র নিহত হয়। নিহত ছাত্রের নাম ফারহান ফাইয়াজ রাতুল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় রাপা প্লাজার সামনে মূল সড়কে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ধানমন্ডি এলাকার ছয়-সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভে অংশ নেন। বেলা ১১টার দিকে ওই শিক্ষার্থীদের প্রথমে ধাওয়া করেন মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। একই সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এরপরই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়।
আসাদগেট, ধানমন্ডি ২৭, কলাবাগান, সায়েন্স ল্যাব ও নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের চাপাতি, রামদা, হকিস্টিকসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্রসহ অবস্থান করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীরা দেশি বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে মূল সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। তখন শিক্ষার্থীরা রাপা প্লাজা, লালমাটিয়া এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে অবস্থান নেন। কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার মধ্যে দুপুরের দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকার পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
এই এলাকায় সংঘর্ষে আহত হয় রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী ফারহান। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মোহাম্মদপুর এলাকার সিটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তার শরীরে রাবার বুলেটের ক্ষত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবরে আরও অনেক শিক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দেন। সন্ধ্যায় ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে পুলিশ ও সরকার–সমর্থকদের সঙ্গে আবার পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ধানমন্ডি এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
সায়েন্স ল্যাব এলাকাতেও দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়।