মদিনার জনসংখ্যা
ঐতিহাসিকদের একাংশ মনে করেন, তখন মদিনার জনসংখ্যা ছিল ৫০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে। ইবনে হিশামের মতে, মদিনার জনসংখ্যাটা প্রায় ১০,০০০। (সিরাহ আন-নাবাবিয়্যা, ২/১৭৮)। আল-ওয়াকিদি মনে করেন, প্রায় ৫০ হাজার। (মাগাজি রাসুলুল্লাহ, ১/২৪৮)। ইবন সাদের মত হলো, এ সংখ্যা ৩০ হাজারের কম নয়। (আল তাবাকাত আল কুবরা, ১/৪২২)
ওপরের তথ্যগুলো নিশ্চয় মহানবীর শেষ সময়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়। কেননা, মক্কা বিজয়ের সময় মুসলিম বাহিনী হিজরি ৮ সালের ১০ রমজান (৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে) মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে বিভিন্ন মিত্র গোত্রের স্বেচ্ছাসেবক এবং দল মুসলমানদের দলে যোগ দেয়। তাতে কাফেলার আকার প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছে যায়। এ তথ্যে ইতিহাসবিদদের মধ্যে দ্বিমত কম।
মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ অনুমান করেনম ৬২০ সালের আশপাশে মদিনার বিভিন্ন শহরে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বাস করত। এই অনুমান অনেকটাই যুক্তিসংগত। কারণ সে সময় মদিনা গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। (লাইফ অ্যান্ড টাইমস অফ মুহাম্মদ, মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ, পৃ ১৭০)।
মানুষের বিন্যাস
মুহাজির: মক্কা থেকে মদিনায় মুসলমানদের প্রথম হিজরতের সময় আনুমানিক ৮০ জন পুরুষ এবং ৩৫ জন নারী মক্কা থেকে হিজরত করেছিলেন। আনুমানিক ৩৫ জন শিশুকেও এর সঙ্গে যুক্ত করা যায়। বলা চলে, মোট ১৫০ জন মুহাজির বা অভিবাসী মদিনায় এসেছেন। (সিরাত রাসুলুল্লাহ, ইবনে ইসহাক, পৃ ২১৮)।
আনসার: আনসারদের মধ্যে আওস ও খাজরাজ দুইটি প্রধান উপজাতি ইসলামে দীক্ষা নেয়। এ দুই গোত্র মিলে দুই হাজারের মতো যোদ্ধা ছিল বলে অনুমান করা হয়। (আল তাবাকাত আল কুবরা, ইবনে সাদ, ২/৬৯)। সে হিসাবে ধারণা করা যায়, আওসের আনুমানিক এগারো শ পুরুষ, এগারো শ ২৫ জন নারী এবং এক হাজার শিশু ছিল । খাজরাজের আনুমানিক ৬০০ পুরুষ, ৬২৫ নারী ও ৫৫০ শিশু ছিল।