লিয়াকত আলী ভূঁইয়া দাবি করেন, সেলে প্রতি মাসে ৯–১০টি অভিযোগ পড়ে। সেসব অভিযোগের ৯০ শতাংশ সমস্যাই সমাধান হচ্ছে। তবে শুধু রিহ্যাব সদস্য আবাসন কোম্পানির গ্রাহকেরাই এই সেলে অভিযোগ জানাতে পারেন। তাই কোনো আবাসন প্রতিষ্ঠানে ফ্ল্যাট বুকিং দেওয়ার আগে সেটি রিহ্যাবের সদস্য কি না, যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
ফ্ল্যাট কেনাবেচায় ভবিষ্যতের ঝামেলা এড়াতে রিহ্যাবের এই সহসভাপতির পরামর্শ, ফ্ল্যাট বুকিং দেওয়ার আগে আবাসন কোম্পানির চুক্তি অভিজ্ঞদের দেখানো উচিত। প্রয়োজনে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া আবাসন প্রকল্পটিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমতি আছে কি না, দেখে নিতে হবে। রাজউকের ওয়েবসাইট থেকে সহজেই সেটি যাচাই করা যায়।
আচ্ছা ধরা যাক, রিহ্যাবের ওই সেলে অভিযোগ করেও কোনো সমাধান মিলল না। তখন কী হবে? সে ক্ষেত্রে সালিস আইন, ২০০১ অনুযায়ী ক্রেতা বা জমির মালিক সালিসি ট্রাইব্যুনালের আশ্রয় নিতে পারেন। ৩০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ যদি ট্রাইব্যুনাল গঠনে ব্যর্থ হয়, তাহলে যেকোনো পক্ষ ‘রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ২০১০’ আইনের আওতায় মামলা করতে পারে।
রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ আইন অনুযায়ী, ফ্ল্যাটের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের তিন মাসের মধ্যে ক্রেতাকে দখল হস্তান্তর ও দলিল করে দেবে আবাসন কোম্পানি। সেই সময় চুক্তির কোনো রকমফের হলে, ফ্ল্যাটের আয়তন কম বা বেশি হলে, পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে তা সমন্বয় করতে হবে। আবাসন কোম্পানি যদি নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে না পারে, তাহলে চুক্তিতে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণসহ সব অর্থ ফ্ল্যাট ক্রেতাকে ছয় মাসের মধ্যে ফেরত দিতে হবে। চুক্তিতে ক্ষতিপূরণের হার উল্লেখ না থাকলে ১৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে।