এই গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল পরিস্থিতি শান্ত করার ক্ষেত্রে কান্নার ক্ষমতা পরীক্ষা করা। ছয়জন নারীর অশ্রু সংগ্রহ করেছিলেন গবেষকেরা। অশ্রু সংগ্রহ করার আগে একটি বিশেষ কৌশল নেওয়া হয়। ওই ছয় নারীর সঙ্গী পুরুষদের একটি ভিডিও গেম খেলতে দেওয়া হয়, যা তাদের আগ্রাসী মনোভাবকে আরও উসকে দেয়। ওই সময় পুরুষেরা ভিডিও গেমটি খেলছিলেন একটি এমআরআই স্ক্যানারের মধ্য দিয়ে। এই স্ক্যানার দিয়ে তাঁদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পরিমাপ করছিলেন গবেষকেরা।
দেখা গেছে, নারীদের কান্নার ঘ্রাণ পেয়ে গবেষণায় অংশ নেওয়া পুরুষদের আগ্রাসী আচরণ ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গেছে। ব্রেন ইমেজিং পরীক্ষায় দেখা গেছে, কান্নার ঘ্রাণ পেয়ে আগ্রাসী মনোভাবের সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশটিও তার কার্যকলাপের মাত্রা কমিয়ে দেয়।
গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইজম্যানস ব্রেন সায়েন্সেস বিভাগের বিজ্ঞানী হোয়াম সোবেল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা খেয়াল করেছি, অশ্রু মস্তিষ্কের ঘ্রাণজনিত রিসেপ্টরগুলোকে সক্রিয় করে তোলে আর আগ্রাসন–সম্পর্কিত অংশটিকে অনেকটা নিষ্ক্রিয় করে। এতে উল্লেখযোগ্যভাবে আগ্রাসী আচরণ কমে আসে।’
সোবেল আরও বলেন, অশ্রু হলো একটি ‘রাসায়নিক রক্ষাকবচ’, যা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। এই প্রভাব ইঁদুর ও মানুষের পাশাপাশি অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রেও সাধারণ বৈশিষ্ট্য হতে পারে।
শিশুদের প্রসঙ্গটি সামনে এনে গবেষকেরা বলেন, ভাষাহীন যোগাযোগের ক্ষেত্রে কান্না একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।