চারটি শ্রেণির বিভিন্ন বই সংগ্রহ করে দেখার পর শিক্ষক, অভিভাবক, মুদ্রণকারী এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার সরকারি সিদ্ধান্তেই বইয়ের উজ্জ্বলতা কমিয়ে ধরা হয়েছে। আর দুটি শ্রেণির বই শেষ সময়ে তাড়াহুড়া করে ছাপতে যাওয়া, মুদ্রণকারীদের অতি মুনাফার লোভ ও গাফিলতি এবং তদারকির অভাবে বইয়ের ছাপার মান খারাপ হয়েছে। এখনো সবাই বই পায়নি। কারণ, ছাপা শেষ হয়নি।
মুদ্রণবিভ্রাটে সাতক্ষীরার শিক্ষার্থীদের দেওয়া তৃতীয় শ্রেণির ইসলাম শিক্ষার ৩১ হাজারের বেশি বই ফেরত নেওয়া হয়েছে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. ফরহাদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় ৩১ কোটির মধ্যে কিছুসংখ্যক বইয়ে ভুলভ্রান্তি বা ছাপার কাজ কিছু খারাপ হওয়া অসম্ভব নয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী, মুদ্রণবিভ্রাট ও ভুলত্রুটি হলে তা ১৫ দিনের মধ্যে ঠিক করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, সাতক্ষীরায় অল্প কিছু বইয়ে মুদ্রণবিভ্রাট হয়েছে, সব জায়গায় নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
অবশ্য বই নিয়ে এমন ‘গাফিলতি’ নতুন নয়। ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবইয়ে ভুল ও অসংগতি নিয়ে বিতর্কের পর শিক্ষাবর্ষের মধ্যেই ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির দুটি বই (ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের অনুসন্ধানী পাঠ) আকস্মিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। এবার বই দুটি পাঠ্য হিসেবেই রাখা হয়নি। ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির সব কটি বইয়ে ভুলভ্রান্তি ছিল, যা নিয়ে পরে সংশোধনী দেয় এনসিটিবি।