সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবির আন্দোলনকে ঘিরে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা থামেনি। গতকাল বুধবার সরকারি ছুটির দিনেও রাজধানীসহ দেশের অন্তত আট জেলায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া অন্তত ১০টি জায়গায় সড়ক ও মহাসড়ক এবং দুই জায়গায় রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারীরা। এসব ঘটনায় ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
এর বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দিনভর সংঘর্ষে শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
আন্দোলনের প্রথম কয়েক দিন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও গত সোম ও মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে ছয়জন নিহত হন। এরপর দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সিটি করপোরেশন এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।
নিহত ব্যক্তিদের প্রতীকী কফিন নিয়ে মিছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে গতকাল ছুটির দিনেও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়ক-মহাসড়ক-রেলপথ অবরোধ করেন। আন্দোলনকারীদের এসব কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা এবং সরকার-সমর্থক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হামলা এবং পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়।