তদন্ত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রথমত, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রশ্ন বাছাইয়ের কাজে ট্রেজারিতে যাঁদের পাঠিয়েছেন, তাঁরা পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের খামে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র ঢুকিয়েছেন। ফলে ভুল প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছেছে। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রে কক্ষভিত্তিক প্রশ্নপত্র বণ্টনের আগে প্যাকেট খোলার সময় বিষয় ও কোড যাচাই করে তিনজন কর্মকর্তার স্বাক্ষর দিয়ে প্যাকেট খুলতে হয়। তাঁরা হলেন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসনের পাঠানো ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের সদস্য। তিনজনেই প্রশ্নপত্র বের করার আগে প্যাকেটের গায়ে স্বাক্ষর করেছেন; কিন্তু তাঁরা সূচি অনুযায়ী বিষয় ও পত্র কোড মেলাননি। তাঁরা যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতেন, তাহলে প্যাকেট খোলার আগেই ভুল ধরা পড়ত। ভুল প্রশ্নপত্র পরীক্ষার্থীদের হাতে যেত না। পুনরায় সঠিক প্রশ্ন এনে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হতো।
গত বৃহস্পতিবার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে বিজয় সরণি কলেজ কেন্দ্রের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের দ্বিতীয় পত্রের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। ঘটনার পর কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় ওই কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবু হেনা মো. মোস্তফা জামালসহ অন্য তিন শিক্ষককে।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মো. নোমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিটি পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ের দুটি সেট ট্রেজারি থেকে দেওয়া হয়। পরীক্ষা শুরুর আগেই জেলা প্রশাসন থেকে কোন সেটের প্রশ্নের পরীক্ষা হবে, তার মেসেজ দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবারের পরীক্ষার জন্য তাদের দেওয়া হয় ২ ও ৪ নম্বর সেটের প্রশ্ন। ২ নম্বর সেটের প্রশ্নে পরীক্ষা হবে বলে মেসেজ করা হয়। সৃজনশীল প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়ার আগেই হল পর্যবেক্ষকদের চোখে পড়ে, প্রশ্ন ভুল এসেছে। প্রশ্ন ভুলের খবরে তাঁরা ভীত হয়ে পড়েন। কী করবেন, বুঝে উঠতে পারছিলেন না। পরে ট্রেজারি থেকে সঠিক প্রশ্নের সেট আসার পর পরীক্ষা নেন। শিক্ষার্থীদের হাতে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন দেননি তাঁরা। বিষয়টি অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।