শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সিন্ডিকেট ডেকে আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সেখানে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সভাগুলোর সংবাদের সূত্রে জানা গেল যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা ক্যাম্পাসেই আছেন। ক্যাম্পাসে দিনে এবং রাতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ বা পুলিশি অভিযানের সময় উপাচার্য বা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কাউকেই দেখা যায়নি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের প্রাঙ্গণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যখন আক্রান্ত হয়েছেন, উপাচার্য তখনো তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে আসেননি। আন্দোলন দমানোর কৌশল হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় খালি করে দেওয়ার এই কৌশল পুরোনো, জেনারেল এরশাদের শাসনের সময় এর পুনঃপুন ব্যবহার হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা বিধানের চেয়ে ক্যাম্পাসে যখন সংঘাত চলছে, পুলিশ ক্রমাগতভাবে হামলা করছিল, সেই সময়ে তাঁদের হল ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে অস্বীকার করায় পুলিশি অভিযানের হুমকির মাধ্যমে তাঁদের বের করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে, তাকে উপহাস বললেও সামান্যই বলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘সিন্ডিকেটের নির্দেশনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে’ শিক্ষার্থীরা ‘শান্তিপূর্ণভাবে আবাসিক হল ত্যাগ’ করায় তাঁদের ধন্যবাদ জানানে হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা’ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চয় বুঝতে পারে যে মঙ্গল কামনা করাই তাঁদের কাজ নয়, তার ব্যবস্থা করার জন্য তাদের ভূমিকা আছে। তারা সেই ভূমিকা পালন করেছে কি না, এখন করছে কি না, সেটা তারা নিজেদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করে দেখতে পারে। শিক্ষার্থীদের মঙ্গল চাইলে এই সংকটের সময় কী করত, সেই তালিকা খুব দীর্ঘ নয়, দরকার ছিল তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। শুধু তা-ই নয়, অতীতেও তারা যদি মঙ্গল চাইত, তবে গত বছরগুলোতে অন্তত গেস্টরুম/গণরুমের বিপক্ষে ব্যবস্থা নিত, হলগুলোকে কার্যত ছাত্রলীগের হাতে সঁপে দিত না।