গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার ওয়ারীতে এক অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস আশ্বাস দিয়েছিলেন, বর্ষায় অতিবৃষ্টি হলেও ১৫ মিনিটের মধ্যে পানি নিষ্কাশিত হবে। ২০১৭ সালে তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছিলেন, ‘আমি প্রমিজ (অঙ্গীকার) করছি, সামনের বছর থেকে আর জলাবদ্ধতা দেখবেন না।’
জলাবদ্ধতা নিরসনে সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনেক আশ্বাস ও অভয়বাণী শোনা গেছে। ভবিষ্যতেও শোনা যাবে। কিন্তু তাতে সমস্যার সমাধান হবে না। মূল সমস্যা পাশ কাটিয়ে এ ধারকা মাল ওধার করার মতো দায়িত্ব পরিবর্তন করলে জলাবদ্ধতা কমবে না।
পানিনিষ্কাশনের জন্য প্রথমত খালগুলো দূষণ ও দখলমুক্ত রাখতে হবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে উন্নত করতে হবে। পরিবেশবিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিকের উৎপাদন ও ব্যবহার। এটা বন্ধ করা দরকার। এ জন্য সরকারকে নতুন করে আইনও করতে হবে না। অন্তত ২০০২ সালে পলিথিনের শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ করে যে আইন করা হয়েছিল, সেটি বাস্তবায়ন করুক।
অন্যদিকে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব আছে। নাগরিকেরা যদি সব ময়লা–আবর্জনা ও বর্জ্য যত্রতত্র ফেলতে থাকেন, তাহলে যেমন এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হবে, তেমনি খাল ও নালাগুলোও বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হবে। প্রবাদ আছে, ‘নিজের ভালো পাগলেও বোঝে।’ ঢাকার বাসিন্দারা কবে বুঝবেন?