23.1 C
New York

হেনরি কিসিঞ্জার, চীনের উত্থান এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

Published:

আমি মনে করি, বিগত শতাব্দীর ৬০/৭০–এর দশকে  মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল, পরবর্তী বিশ বছরের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন যে ভেঙে যেতে চলেছে, এ বিষয়ে কোনো ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী করতে না পারা। অথচ ইঙ্গিত যে ছিল না, তা নয়।

বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তারের যে কার্যক্রম সোভিয়েত ইউনিয়ন চালাচ্ছিল, তা অর্থায়নের সক্ষমতা তাদের অর্থনীতির ছিল না। সোভিয়েত ইউনিয়নকে মোকাবিলার জন্য চীনের সহায়তা প্রয়োজন ছিল না যুক্তরাষ্ট্রের। বিশেষত উসুরি নদীর একটি চরের মালিকানা নিয়ে ১৯৬৯ সালের চীন-সোভিয়েত সীমান্ত সংঘাতের পর এমনিতেই চীন ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি বৈরীভাবাপন্ন। তাত্ত্বিক প্রশ্নেও কমিউনিস্ট দেশ দুটি ছিল বিভক্ত। এমতাবস্থায় সোভিয়েত আধিপত্য নিয়ন্ত্রণে আকাশচুম্বী ছাড় দিয়ে দরিদ্র, অনুন্নত চীনকে পাশে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না যুক্তরাষ্ট্রের।

বিনিময়ে চীন যা পেয়েছিল, তা ছিল যুগান্তকারী। ১৯৪৮ সালের চীনা কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর চিয়াং কাই শেকের নেতৃত্বাধীন চীন প্রজাতন্ত্রের জাতীয়তাবাদী সরকার আশ্রয় নেয় তাইওয়ানে। পরবর্তী ২৩ বছর এই সরকারই জাতিসংঘে চীনের প্রতিভূ হিসেবে স্বীকৃত থাকে। মূল ভূখণ্ডের গণপ্রজাতন্ত্রী চীন থেকে যায় জাতিসংঘের বাইরে। এটি নিঃসন্দেহে একটি অন্যায্য ব্যবস্থা ছিল। চীন–মার্কিন সম্পর্ক স্থাপনের পর চীন প্রজাতন্ত্রের পরিবর্তে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন জাতিসংঘে ভেটো ক্ষমতাসহ চীনের প্রতিনিধিরূপে আবির্ভূত হয় মার্কিন সহায়তায় এবং তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসেবে মেনে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

Related articles

Recent articles

spot_img