16.9 C
New York

হাইস্কুল-মাদরাসায়ও মিড-ডে মিল চালু করার সুপারিশ

Published:

দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। পাইলটিং শেষে প্রকল্পটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগির সারাদেশে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর পাশাপাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (হাইস্কুল) ও মাদসাগুলোতেও মিড-ডে মিল ব্যবস্থা চালু করা জরুরি বলে মনে করে গণস্বাক্ষরতা অভিযান। বিষয়টি বিবেচনায় সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

গণস্বাক্ষরতা অভিযান বলছে, একসময় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের ফলিক এসিড দেওয়া হতো, এখন তা দেওয়া হয় না। এব্যবস্থা পুনরায় চালু করতে হবে। একইসঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসায় মিড-ডে মিল চালু করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা এ দাবি জানিয়েছেন। মাধ্যমিক ও মাদরাসার মতো বিস্তর পরিসরে মিড-ডে মিল বাস্তবায়নে বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সকালে ‘শিক্ষার ন্যায্যতাভিত্তিক বাজেট: আমাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ সুপারিশ করা হয়। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতিবিদ ও এডুকেশন ওয়াচের চেয়ারপারসন ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচলনা করেন গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী।

সভায় জানানো হয়, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের পক্ষ থেকে তৃণমূলের চাহিদা ও ভাবনা জানতে জেলা পর্যায়ে চারটি এবং উপজেলা পর্যায়ে ছয়টি মতবিনিময় সভা করা হয়। সেখান থেকে যেসব চাহিদা ও প্রত্যাশা উঠে এসেছে এবং এ সংক্রান্ত গবেষণার ফল ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে এ সুপারিশ করেছের তারা।

সুপারিশমালায় বলা হয়, মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সবার লেখাপড়া অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করতে হবে। সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের খাতা, কলম, টিফিন বক্স, ব্যাগ, ছাতাসহ বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ দেওয়া প্রয়োজন। এজন্য বাজেটে বরাদ্দ থাকতে হবে। অনেক স্কুলে কম্পিউটারগুলো ব্যবহার করা হয় না বলে একসময় অকেজো হয়ে যায়। এগুলো চালু রাখা ও কম্পিউটার মেরামতের জন্য বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। স্মার্ট নাগরিক গড়তে হলে স্মার্ট পরিকল্পনা নিতে হবে, স্মার্ট বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। সব বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব, সায়েন্স ল্যাব স্থাপন ও ব্যবহারের জন্য বাজেট রাখতে হবে। এছাড়া স্কুল লাইব্রেরিতে লেখাপড়ার ক্ষেত্রে উদ্দীপনামূলক বা কাউন্সেলিং বিষয়ক বই সরবরাহ করা এবং সব স্কুলে মিউজিক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য বাজেট প্রয়োজন। পাশাপাশি নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ বিষয়ে কারিকুলামে আরও বেশি জোর দেওয়া এবং ইভটিজিং ও স্কুল বেইজড ভায়োলেন্স বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।

নতুন কারিকুলামের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এক্ষেত্রে গণস্বাক্ষরতা অভিযান বলছে, নতুন প্রণীত কারিকুলামে মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে জনবান্ধব করতে হবে। এলক্ষ্যে নতুন কারিকুলামের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শিক্ষানীতিকে যুগপোযোগী করা এবং কারিকুলাম বাস্তবায়নে জন্য যে অর্থ প্রয়োজন, তার জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে। বিদ্যালয় পর্যায়ে পাঠদান পদ্ধতিতে যে বৈষম্য রয়েছে, তা নিরসন করা এবং পাঠ্যবইয়ের মান উন্নয়ন করার জন্য বরাদ্দ প্রয়োজন। দুর্যোগকালে যাতে শিক্ষা চলমান থাকে সেজন্য পূর্বপরিকল্পনা করা এবং বাজেটে বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।

প্রতিটি ক্লাস্টারে একটি করে ডে-কেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থা করা এবং বিদ্যালয় পর্যায়ে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার তৈরি করার জন্য বাজেট রাখা দরকার। আন্তঃবিদ্যালয় পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজনের ব্যবস্থা করার জন্য বাজেট রাখতে হবে। মাধ্যমিক স্কুলে বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত, দারিদ্রপীড়িত, প্রত্যন্ত এলাকার মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলে ভালো টয়লেট, স্যানিটারি প্যাড, সাবান, টিস্যু ইত্যাদির ব্যবস্থা থাকতে হবে। এ সংক্রান্ত স্কুলভিত্তিক বাজেট রাখার জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখতে হবে। সব স্কুলে ওয়াশব্লক স্থাপন করা, ওয়াশব্লকের সংখ্যা বাড়ানো এবং জরাজীর্ণ ওয়াশব্লক মেরামত করা দরকার। এজন্য বাজেটে যথাযথ অর্থসংস্থান প্রয়োজন। জেন্ডার সমতা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতি স্কুলে একজন নারী শিক্ষককে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া দরকার। বাল্যবিবাহের নেতিবাচক দিক নিয়ে সচেতন করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।

এএএইচ/এসআইটি/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

Related articles

Recent articles

spot_img