9.9 C
New York

স্বাধীনতার প্রথম বার্ষিকীতে শিল্পের জাতীয়করণ, সফল নাকি ব্যর্থ উদ্যোগ

Published:

কিন্তু করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে পেশাদারদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি আমলারা ভালো চোখে দেখেননি বলে মন্তব্য করেন রেহমান সোবহান। পূর্ব পাকিস্তানের ইপিআইডিসির অধীনে ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নয়টি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলেন আমলারা। ফলে রাষ্ট্রীয় খাতে তাঁরা আগের মতোই সরকারি কর্মকর্তাদের প্রাধান্য বজায় রাখতে চাইলেন। পেশাদারদের নিয়োগ দেওয়ার কারণে আমলারা খেপে যান। রেহমান সোবহান বলেন, পরিকল্পনা কমিশন যে প্রাথমিক বিজয় পেয়েছিল, তার জন্য অনেক দাম দিতে হয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে সবকিছুর ওপর আমলাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। পরিকল্পনা কমিশন অকার্যকর হতে শুরু করে; একপর্যায়ে কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সদস্যরা একে একে চলে যেতে থাকেন।

যদিও রেহমান সোবহান বলেছেন, জাতীয়করণকৃত খাতের নৈপুণ্য নিয়ে যত নেতিবাচক কথা বলা হয়, বাস্তবতা তেমন ছিল না। ১৯৭২-৭৩ সালের তুলনায় ১৯৭৩-৭৪ সালে এসব করপোরেশন ভালো করেছে; এমনকি ১৯৭৫-৭৬ সালে তা স্বাধীনতাপূর্ব সময়কে ছাড়িয়ে যায়। জাতীয়করণকে কালিমালিপ্ত করতে পরবর্তীকালে এই ধারণা ছড়ানো হয়েছে যে এই খাত ব্যর্থ হয়েছে। রেহমান সোবহানের আক্ষেপ, নির্বাহী ক্ষমতা থাকলে তিনি আরও সফল হতে পারতেন, কারণ, তিনি এই খাতের সমস্যা বুঝে গিয়েছিলেন এবং নির্বাহীদের আস্থাও অর্জন করেছিলেন।

বিষয়টি হলো, শুধু বাংলাদেশ নয়, অনেক উন্নয়নশীল দেশেই প্রথম দিকে জাতীয় উদ্যোগের আধিক্য থাকে। দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান বা চীনের কথাই ধরা যাক না কেন, শিল্পের জাতীয়করণ তাদের উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ধীরে ধীরে সেখানে বেসরকারি খাতের বিকাশ ঘটেছে। এখনো চীনে রাষ্ট্রীয় খাত বড়। সেখানে অবশ্য কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আছে। বিষয়টি হলো সুশাসন নিশ্চিত করাই বড় কথা। স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা, দূরদৃষ্টির অভাব থাকলে কোনো উদ্যোগই সফলতার মুখ দেখবে না—এসব এখন বলা বাহুল্য।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বঙ্গবন্ধু সব সময় শোষণ ও অন্যায্যতা অবসানের কথা বলেছেন। সেই ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সময় ২১ দফা দাবিতে জাতীয়করণের কথা ছিল। পরবর্তীকালে ছাত্রদের ১১ দফা দাবিতেও এ কথা ছিল। বঙ্গবন্ধু ১১ দফা গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ইশতেহারেও এ কথা ছিল। ফলে তিনি যে সমাজতন্ত্রীদের চাপে বা পরিকল্পনা কমিশনের চার অর্থনীতিবিদের কথায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, বিষয়টি মোটেও তা নয়।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে জাতির সবচেয়ে মেধাবী মানুষদের দায়িত্ব দেন। কিন্তু সেই কমিশন কীভাবে আমলাতন্ত্রের চাপে ভেঙে পড়ে, আমরা তা জানি। কিছু মানুষকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কঠোর হতে হয়। সেই মানুষদের বঙ্গবন্ধু ঠিকই বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু দলীয়, প্রশাসনিকসহ নানা চাপেই শেষমেশ তা আর হয়ে ওঠেনি।

সূত্র: বঙ্গবন্ধুর গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের ৭টি বৈশিষ্ট্য, বিনায়ক সেন; আওয়ার ডেট টু দ্য ফোর প্রফেসর্স, এস নজরুল ইসলাম, প্রথমা প্রকাশনী

Related articles

Recent articles

spot_img