-0.6 C
New York

সোনাদিয়া দ্বীপে রাতের ক্যাম্পিং | প্রথম আলো

Published:

উখিয়া থেকে আসা কিছু তরুণ মিসবাহর সঙ্গে যোগ দিয়ে সন্ধ্যার আসরটা জমিয়ে তুলেছেন। গল্পে, আড্ডায় রাত প্রায় ৯টায় নিশান ভাই ঘর থেকে পরোটা বানিয়ে নিয়ে এসে আমাদের জ্বালানো আগুনের কয়লায় মুরগির বারবিকিউ তৈরি করে দিলেন। এটাই আজ রাতের খাবার। রাতের খাবার গ্রহণ শেষে গ্রুপের সবাই নিজ নিজ তাঁবুতে বিশ্রামে চলে যায়। উখিয়া থেকে আসা গ্রুপটি দল বেঁধে চাঁদের আলোয় হাডুডু খেলছে। ঢাকা থেকে আসা আরেকটি গ্রুপ আড্ডার আসর বসিয়েছে। সৈকতজুড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন পর্যটক। ইতিপূর্বে কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন, কুতুবদিয়া, নিঝুম দ্বীপ, পারকি, কুয়াকাটা, বাঁশখালীসহ অনেক সৈকতে গিয়েছি; তবে সোনাদিয়া দ্বীপের মতো এমন নীরবতা কোথাও পাইনি। কিশোর মজুমদার লিখেছেন,
‘ছবি যেমন নীরব কবিতা, তেমনি নীরবতাও মুখর কবিতার জন্ম দিতে পারে।’

রাত চারটায় তাঁবু থেকে বের হয়ে দেখি পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় পুরো সৈকত ফরসা হয়ে আছে। রাতের নীরবতায় সাগরের মৃদু ঢেউয়ের শব্দগুলো অসম্ভব ভালো লাগে। ভোর সাড়ে পাঁচটায় সবাইকে জাগিয়ে আবারও সৈকতে হাঁটতে গেলাম। সাতটায় সবাই ব্যাগ গুছিয়ে আলমগীর ভাইয়ের বাসায় গরম–গরম খিচুড়ি খেয়ে বোটে করে রওনা হলাম সোনাদিয়ার দক্ষিণ–পূর্ব সৈকতের বিখ্যাত শুঁটকিপল্লিতে। সারা বছর শুঁটকি উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হয়। পর্যটকেরা সবাই শুঁটকি কিনতে ব্যস্ত।

আমরাও শুঁটকি কিনে বোটে চড়ে ঘটিভাঙ্গা ঘাটে আসি, তখন বেলা দুইটা। ঘাটের পাশে হোটেলে দুপুরের খাবার শেষে মহেশখালী স্টেশন থেকে বাসে ফিরতে শুরু করি প্রাণের শহর চট্টগ্রামে।

বি. দ্র. সোনাদিয়া দ্বীপে কোনো হোটেল–রিসোর্ট নেই, স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ক্যাম্পিং এবং খাবারের ব্যবস্থা করে যেতে হয়।

Related articles

Recent articles

spot_img