22.3 C
New York

সুলতানার স্বপ্ন, সাহসিকাদের জীবন এবং এক অমীমাংসিত লেডিল্যান্ড

Published:

এখন কথা হলো, যে সমাজে সবাই সমান, সেটিই হওয়া উচিত নারীবাদী ইউটোপিয়া, পুরুষকে আটকে রেখে তাঁর অধিকার খর্ব করে কেমন নারীবাদ?—এ প্রশ্ন করা যেতে পারে, নারীবাদীদের। এ প্রশ্ন করাই প্রয়োজন। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, সুলতানা’স ড্রিম প্রকাশিত হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ১১৯ বছর আগে ১৯০৫ সালে, ইংরেজি ভাষায়। কার জন্য এটি লিখেছিলেন রোকেয়া? পুরুষকে হেয় করাই কি উদ্দেশ্য ছিল? তাঁদের আটকে রেখে কি নারীমুক্তি হতে পারে? উঠতে পারে এসব প্রশ্নও। জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে লেখকের ভাষার অর্বাচীনতা আর অতি সরলীকরণের প্রভাব নিয়ে। তবে এর আগে যা ভাবা জরুরি তা হলো, এই যে মর্দানে আটকে থাকতে থাকতে লেডিল্যান্ডের পুরুষদের আটকে থাকায় অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার ব্যাপার, এটা আমাদের বলে দেয়, রোকেয়া আসলে নারীর সামনে একটা উল্টো চিত্র হাজির করে তাঁদের জাগিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন। অভ্যস্ত অন্তরাল থেকে তিনি তাঁদের বের হতে বলছেন আর স্বপ্ন দেখাচ্ছেন নারীর অন্তর্লীন শক্তির প্রতি আস্থা রাখতে। পুরুষকে দাবিয়ে রাখা দেখানো কোনো প্রতিশোধস্পৃহায় নয়; বরং উল্টো নারীকে এ জীবন প্রত্যাখ্যান করার শক্তি জোগানোর চেষ্টামাত্র। তো নারী এই শক্তি অর্জন করতে পারে কেবল একটি পথে—শিক্ষা ও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মাধ্যমে। এ পথে রোকেয়া বরাবরই উজ্জীবিত করতে চেয়েছেন নারীদের।

আজ শতবর্ষ পেরিয়েও যখন দেখি, বাড়িওয়ালার এক গালিতে অধিকার আদায়ে জড়ো হওয়া নারী শ্রমিকেরা নিমেষে হাওয়া হয়ে যান; চাকরি ও ঘর হারানো বা অপবাদের ভয়ে, এমনভাবে সমাজে টিকে থাকেন (যদিও তাঁরাই আয় করেন সংসারে), তবু যেন অদৃশ্য–অনাহূত, অকর্মণ্য স্বামীর লাথি-গুঁতা খেয়েও পড়ে থাকেন সংসার সামলানোর দায় নিয়ে; তখন মনে হয়, এসব পুরুষকে আটকানোর মর্দান থাকলে মন্দ হতো না। যখন অপহৃত, ধর্ষিত কন্যা-ভগ্নি-জননীর মৃতদেহ পড়ে থাকে, খেতে-জঙ্গলে বা রাস্তায়; আর সে অপরাধের দায় চাপে নৃশংস অপরাধের শিকার নারীর ঘাড়েই, আপনারও কি মনে হয় না যে এই ভয়াবহ অপরাধীদের কোথাও আটকে রাখতে পারলেই হতো রক্ষা? যে সমাজে আজও নারীর অধিকারের কথা বলা ‘অপরাধ’, সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যার প্রশ্ন তোলা ‘পাপ’, অথচ সংসার চালানো ও সামলানোর দায়ও তারই ঘাড়ে, তখন আমার তো মাঝেমধ্যেই মনে হয়, একটা লেডিল্যান্ডে ঢুকে পড়তে পারলে বেঁচে যেতাম।

Related articles

Recent articles

spot_img