29.9 C
New York

সুরা ফালাকের সারকথা | প্রথম আলো

Published:

সুরা ফালাকের সারকথা | প্রথম আলো

প্রথম আয়াতে দেওয়া হয়েছে আশ্রয়দাতা সত্তার পরিচয়। বাকি আয়াতগুলোতে আছে কী কী থেকে আশ্রয় চাওয়া হচ্ছে, তার বর্ণনা। বেসব বিষয় থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে, এই সুরায় তা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

সুরাটির দ্বিতীয় আয়াতে সৃষ্টির ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। প্রথম আয়াতে সবকিছুর স্রষ্টার কাছে আশ্রয় চাওয়ার পর এবার সেই সৃষ্টিগুলোর সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। অন্য সৃষ্টির পক্ষ থেকে আমাদের ওপর অনিষ্ট আসতে পারে, আবার আমাদের পক্ষ থেকেও অন্য সৃষ্টির প্রতি অনিষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই দুই বিষয়েই আশ্রয় চাওয়া হচ্ছে।

তৃতীয় আয়াতে রাতের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া হচ্ছে। এখানে রাত বলতে অন্ধকার, অশুভ, মন্দ—সবকিছুরই ইঙ্গিত আছে। সাধারণত সব অপরাধ বা পাপের সময় রাত। অন্ধকারে কী হচ্ছে, তা অনেক সময়েই অগোচর থেকে যায়। অগোচর বিপদের হাত থেকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়াও দুরূহ।

চতুর্থ আয়াতে গেরোয় ফুঁ দিয়ে যে অনিষ্ট করা হয়েছে, অর্থাৎ কালো জাদু থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।

পঞ্চম আয়াতে হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। নিজে হিংসা করা ও অন্যের হিংসার কারণ হওয়া এই দুটি বিষয় থেকেই আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। আগের আয়াতের জাদুকরের অনিষ্টের মূল কারণ ছিল হিংসা।

পুরো সুরাতেই অন্ধকার, মিথ্যা ও অন্যায় ভেদ করে আলো বা সত্য প্রকাশের কথা এসেছে। সব ধরনের অন্ধকার ভেদ করে আলোর প্রকাশকারী আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া হয়েছে এই সুরায়।

আল্লাহ রাসুলুল্লাহ (সা.)–কে চারটি অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অমঙ্গল থেকে। রাত্রি যখন গভীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন থাকে, তার অমঙ্গল থেকে। যেসব নারীর গেরোয় ফুঁ দিয়ে জাদু করে, তার অমঙ্গল থেকে। আর হিংসুক যখন হিংসা করে, তার অমঙ্গল থেকে।

আল্লাহ বলেন, ‘এবং অমঙ্গল থেকে হিংসুকের, যখন সে হিংসা করে।’ আয়াতটিতে হিংসুকের থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে; কিন্তু যখন সে হিংসা করে, অন্য সময় নয়।

Related articles

Recent articles

spot_img