2.9 C
New York

সামনে দাঁড়িয়ে কোল্ডপ্লের কনসার্ট দেখতে কেমন লাগে

Published:

কনসার্টের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় একজন বলেছিল, কোল্ডপ্লের কনসার্টে খারাপ সিট বলতে কিছু নেই। এ কথায় বিন্দুমাত্র ভুল নেই। সামনে থেকে সৌন্দর্য যেমন, দূর থেকে দেখলেও নতুন মাত্রায় অভিজ্ঞতা পাবেন শ্রোতারা। একের পর এক ছোটবেলা থেকে শুনে আসা প্রিয় গানগুলো গেয়ে শোনালেন জাদুকরেরা। বৃষ্টির জন্য যেন নতুন এক রূপ পেয়েছিল পুরো কনসার্ট। প্রিয়জনের পাশে দাঁড়িয়ে ‘ইয়েলো’ গান শোনার সময় দেখলাম চারদিকে তারার মতো সবার হাতের ব্যান্ডটি জ্বলজ্বল করছে। তবে শুধু এখানেই জাদু শেষ নয়; অন্ধকারে জ্বলজ্বল করা বিশাল বেলুন কিছুক্ষণ পরে ছুড়ে দেওয়া হলো শ্রোতাদের মাঝে। স্টেডিয়ামের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে সেই বেলুন ছোড়াছুড়ি করল অনেকেই।
আগে যদি কোল্ডপ্লের কোনো কনসার্টের ভিডিও দেখে থাকেন, তবে নিশ্চয়ই জানেন, আতশবাজি ছাড়া তাদের কনসার্ট অসম্পূর্ণ। আতশবাজিতে আকাশ ছেয়ে যাওয়ার আগে ভক্তদের কাছে বিশেষ এক অনুরোধ করলেন ক্রিস মার্টিন। তাঁদের সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের একটি—‘স্কাই ফুল অব স্টারস’ শুরু করার আগে সবাই যেন মুঠোফোনটা নিজেদের পকেটে রাখি। স্মার্টফোনের কথা ভুলে গিয়ে এইটুকু সময় যেন নিবিড়ভাবে আমরা শুধু তাঁকেই দিই। সত্যি বলতে, কনসার্টের সেরা মুহূর্ত ছিল এটাই। গানটির কোরাসের সময় বন্ধুদের হাত ধরে দেখলাম কুয়ালালামপুরের আকাশে আতশবাজি—সত্যিই মনে হচ্ছিল স্কাই ফুল অব স্টারস (আকাশভরা তারা)।
‘ফিক্স ইউ’ গানটি দিয়ে শেষ হলো ৩ ঘণ্টার শো। শুনতে শুনতে মনে হলো জীবনের সব দুঃখবোধ হয়তো সত্যিই হারিয়ে গেছে। আবার দেখা হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে মঞ্চ থেকে বিদায় নেন পাঁচ জাদুকর। না ভেজা চোখ নিয়ে সেদিন স্টেডিয়াম থেকে বের হতে পারিনি আমরা কেউ।
স্টেডিয়াম থেকে একবারে এক লাখ মানুষ বের হওয়ার ভিড় মানেই বিরাট হ্যাপা। হোটেলে ফিরতেই লাগল প্রায় তিন ঘণ্টা। তবে ট্যাক্সির স্বল্পতা থাকার কারণে এই সময় গণপরিবহন ব্যবহার করাটাই শ্রেয়। এই কারণে মালয়েশিয়া সরকার শুধু ওই দিনের জন্য মেট্রো–সুবিধা রাত একটা পর্যন্ত চালু রেখেছিল। সারা দিন বৃষ্টিতে ভিজে পরদিন জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, সব একসঙ্গে ভর করলেও একবারও মনে হয়নি কনসার্টটা না দেখলেই ভালো হতো, বরং জীবনে যদি আবার কখনো সুযোগ হয়, এমন কনসার্ট দেখব অবশ্যই। আবার জ্বর-ঠান্ডা-কাশি চেপে ধরলেও!

Related articles

Recent articles

spot_img