15.4 C
New York

সাদি মুহম্মদ কেন পদকের জন্য আত্মহত্যা করতে যাবেন

Published:

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, সাদি মহম্মদের মতো একজন প্রবীণ মানুষ, এত বড় মাপের একজন শিল্পী, যিনি রবীন্দ্রনাথ নিয়ে চর্চা করেন, তিনি কেন আত্মহত্যা করলেন?

আমরা জানি না। কারণ, তিনি কোনো নোট লিখে যাননি। শিল্পীরা অভিমানী হন, সেটা আমরা জানি। কিন্তু এই অভিমানের অর্থ কি আত্মহনন? মানতে পারি না। তাঁর জীবনে কষ্ট ছিল, দুঃখ ছিল, বেদনা ছিল, প্রিয়জন হারানোর কষ্ট, চোখের সামনে পিতাকে খুন হতে দেখার কষ্ট, ভগ্নিবিয়োগ, মাতৃবিয়োগ সব শুনেছি, সব জেনেছি। আমার মনে হয় না এই মহান শিল্পী বিয়োগবেদনায় আত্মহত্যা করেছেন।

শিল্পী কেন আত্মহত্যা করেছেন—এই গবেষণার দায়িত্ব আমাকে কেউ দেয়নি অথবা এই গবেষণার অধিকারও আমার নেই। তারপরও গুণীজনদের কাছে জোড় হাত করে ক্ষমা প্রার্থনাপূর্বক একটা কথা বলতে চাই, একটা নৌকা কেন ভেসে যায়? যখন তার নোঙর থাকে না অথবা নোঙরের সঙ্গে বাঁধা কাছি ছিঁড়ে যায়। আমার ধারণা, এই মহান শিল্পীর নোঙর ছিল না।

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহ দহন লাগে
তবুও শান্তি, তবুও আনন্দ, তবুও অনন্ত জাগে।

রবীন্দ্রনাথের এমনই হাজার কথার মাঝেই তো শিল্পীর বাস। তারপরও কেন?

প্রিয় পাঠক, অনুগ্রহ করে ক্ষমা করবেন। এত বড় লেখার অবতারণা করলাম এই কারণে যে মিডিয়াতে এই কথা শুনতে আর ভালো লাগে না যে একুশে পদক দেওয়া হয়নি, তাই শিল্পী সাদি মহম্মদ আত্মহত্যা করেছেন। পদক পাওয়ার জন্য কেউ গান গায় না, পদক পাওয়ার জন্য কেউ কবিতা লেখে না, পদক পাওয়ার জন্য কেউ ছবি আঁকে না, পদক পাওয়ার জন্য কেউ যুদ্ধ করে না। এতে শিল্পীকে ছোট করা হয়। শিল্পী অনেক অভিমান নিয়ে, দুঃখ, ক্ষোভ, রাগ, বেদনা নিয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।

বাংলার মানুষের অন্তরে শিল্পী সাদি মহম্মদ বেঁচে থাকবেন। উনি আত্মহত্যা করেননি, উনি মৃত্যুর সঙ্গে সমঝোতা করেছেন মাত্র। শিল্পীরা কখনো আত্মহত্যা করতে পারেন না।

  • রতন সরকার সহযোগী অধ্যাপক, চারু ও কারুকলা বিভাগ, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ

Related articles

Recent articles

spot_img