25.4 C
New York

সম্রাট বাবরের জন্মস্থানে গিয়ে যা দেখলাম

Published:

সম্রাটের ভাস্কর্য চত্বর থেকে বেরিয়ে দুপুরের খাবার খেলাম। এখন সম্রাটের স্মৃতিস্তম্ভ দেখতে যাব। ১৫৩০ সালের আগ্রায় মৃত্যুবরণ করেন বাবার। কাবুলে তাঁকে সমাহিত করা হোক, এই ছিল তাঁর শেষ ইচ্ছা। সম্রাটের সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই ১৫৪৪ সালে আগ্রা থেকে বাবরের সমাধি সরিয়ে কাবুলে স্থানান্তরিত করেন তাঁর স্ত্রী। কাবুল থেকে অল্প কিছু মাটি এনে তৈরি হয়েছে এই স্মৃতিস্তম্ভ।

মেমোরিয়াল চত্বর আসলে একটি পার্ক। এখানে বাবরের আরও একটি ভাস্কর্য, স্মৃতিস্তম্ভ আর বাবর জাদুঘর রয়েছে। প্রথম ভাস্কর্যটিতে যোদ্ধা বাবরের রূপ তুলে ধরা হয়েছে, আর এখানে কবি বাবরের প্রতিমূর্তি, যেন চিন্তায় নিমগ্ন সম্রাট। বাবর কবিতা লিখতেন, সেই সঙ্গে লিখতেন দিনলিপি। চাগতাই ভাষায় লেখা সেই দিনলিপি উচ্চস্তরের সাহিত্য হিসেবে সমাদৃত।

ভাস্কর্য স্থান থেকে স্মৃতিস্তম্ভের দিকে এগিয়ে গেলাম। স্মৃতিস্তম্ভটি বেশ কিছু সিঁড়ি পেরিয়ে যেতে হয়। স্মৃতিস্তম্ভের কাছে যেতে যেতেই দেখলাম সাদা চেরি ফুল ফুটে আছে। উজবেকিস্তান ভ্রমণে আন্দিজান এসেই কিছু ফুল দেখতে পেলাম। নয়তো সব গাছগাছালি একেবারে পাতাবিহীন। চেরিগাছ পেরিয়ে গেলেই সাদা মার্বেলের স্মৃতিস্তম্ভটি চোখে পড়ল। খানিক সময় সেখানে কাটালাম।

ততক্ষণে মির্জা বেগ জানাল, জাদুঘর খোলা হয়েছে। জাদুঘরটি বন্ধই ছিল, মির্জা খোলার ব্যবস্থা করেছে। জাদুঘরের কিউরেটর খাদিজা ভীষণ হাস্যোজ্জ্বল এক নারী। আমাদের অভিবাদন জানালেন। জাদুঘরে সম্রাট বাবরের তৈলচিত্র, বংশতালিকা, ৩১ ভাষায় অনূদিত বাবরনামা, বাবরনামার পাণ্ডুলিপি, সম্রাট বাবরের ব্যবহার করা বাদ্যযন্ত্রের রেপ্লিকা, সম্রাটের একটি আবক্ষ মূর্তি দিয়ে সাজানো হয়েছে। জাদুঘর থেকে বেরিয়ে আবারও ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে শেষবারের মতো দেখে নিলাম প্রথম মোগল সম্রাটকে।

বেলা প্রায় ফুরিয়ে এল। শরীর কিছুটা আরাম চাইছে। মেমোরিয়াল চত্বরে হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলাম মোগল সাম্রাজ্যের পেছনের কথা। মোগল সাম্রাজ্যের কথা বললেই শক্তি-ক্ষমতা আর জৌলুশের কথা মনে পড়ে। লোদি বংশের ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে এই সাম্রাজ্যের পত্তন করেন বাবর। আর দিল্লিতে সেই সাম্রাজ্য স্থাপনের আগে বাবরকে পাড়ি দিতে হয়েছিল কত লম্বা পথ!

Related articles

Recent articles

spot_img