2.9 C
New York

সংবিধান, এসজিডিজি ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শরিকানা

Published:

বহু বছরের তিক্ততার নিরসনে ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য চুক্তির মধ্য দিয়ে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার বাতাবরণ তৈরির পদক্ষেপ নেয়। তারপরও অসন্তোষ অশান্তির উদ্‌গিরণ হয় কিছুদিন পরপরই। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীদের জন্য ক্রমসংকুচিত কর্মসংস্থান একটি উন্নয়নকামী সমাজের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। আর সেটি যদি হয় নীতি কাঠামোর নিষ্পেষণে, তাহলে এর শিকার হওয়া জনগোষ্ঠীর ভরসার জায়গা থাকে না।

পার্বত্য অঞ্চলের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের কিছু প্রশাসনিক কর্তৃত্ব রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন-১৯৯৮ এবং ২০০০ সালের চাকরির প্রবিধান অনুসারে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত অধিবাসীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকল্পে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে নিয়োগ কমিটি করার বিধান রয়েছে। যেটি সমন্বয়ের একটি লক্ষণীয় আন্তরিক দৃষ্টান্ত বলে গণ্য করা হয়।

কিন্তু সাম্প্রতিক (২০১৯) এক সংশোধনীতে পার্বত্য তিন জেলায় আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের পরিবর্তে প্রতি জেলার ডেপুটি কমিশনারকে নিয়োগ কমিটির প্রধান করার বিধান করা হয়, যেটি উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। কথিত সংশোধনী অসাবধানতাবশত হয়েছে বলা যাবে না, কারণ, এর আগেও ২০১২–১৩ সালে দুবারের সংশোধনীতে তিন পার্বত্য জেলার ক্ষেত্রে নিয়োগ কমিটির সভাপতি হিসেবে পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতি নিশ্চিতের বিধান সংরক্ষিত ছিল।

নিয়োগ কমিটির সভাপতি যদি ডেপুটি কমিশনারকে রাখা হয়, সে ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বিবেচনায় তিন পার্বত্য জেলার অধিবাসীগণ আরও পিছিয়ে পড়বে। অ্যাফারমেটিভ বা পজিটিভ অ্যাকশন (পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে কিছু বাড়তি সুবিধা) নামে কল্যাণকামী রাষ্ট্র যে ইতিবাচক প্রণোদনা দিয়ে থাকে, তার গরিমায় কালিমা পড়বে।

Related articles

Recent articles

spot_img