7.5 C
New York

শীতকাল আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে

Published:

মনই একটা দেশ। এখন সেই দেশে শীতকাল এসেছে? সেই দেশে কি এখন শর্ষে ফুল হলুদ করে রেখেছে মাঠ? সে দেশে যে নদী আছে, সেই নদী কি ক্ষমতাশালী কেউ দখলে নিয়েছে? সেই দেশের মানুষেরা কি কবিতা পড়ে? সেই দেশের মায়েদের ডাকনাম কি উৎকণ্ঠা? সেই দেশেও কি সন্তানেরা অপঘাতে মরে? সেই দেশে কি রক্তপাত হয়? ফুটপাতে অভুক্ত নারী-শিশু ও বৃদ্ধরা ঘুমাতে যায় মাঝরাতে? ঢাকা শহরে কিন্তু এ রকম দেখা যায়। সত্যিই দেখা যায়। পাশ দিয়ে হেঁটে যাই আমরাই। আমাদের নীতিবোধ, ধর্মবোধ ও মানবিকতা দিয়ে আমরা থমকে যাই না। ঘরে ফিরে কবিতা লিখি, গল্প লিখি। সেই কবিতা, সেই গল্প, সেই শিল্পকলা কোথায় যায়? এসব লেখা জীবনের অপচয় করা কি না—এই প্রশ্ন উঁকি দেয় মনে। আবার মন! মনকে এড়িয়ে আমরা থাকতে পারব না। মনে হয়, বাংলাদেশে শীতকাল আসুক। ফুটপাতে যারা ঘুমায়, তাদের ঘরের ব্যবস্থা হোক। কিন্তু ব্যাপারটা তো রাজনৈতিক। কাজেই রাজনৈতিকভাবেই এর সমাধান সামগ্রিক মানুষের ভালো থাকার জন্যই জরুরি। ছেলেমেয়েরা যে পরস্পর মিশতে পারে না, পারিবারিক ও  সামাজিকভাবে বাঁধা—এ–ও তো রাজনীতির বাইরে নয়। সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। এর কোনো সম্ভাবনা দেখা যায় কি? উত্তরাধিকারসূত্রে বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করছেন কবিগণ, লেখকেরা, তাহলে বাংলার গোটা সমাজব্যবস্থাকে পাশ কাটানোর সুযোগ তো নেই। শুধু নিজে ও নিজের পরিবার নিয়ে ভালো থাকব—এমন চেতনায় তো উৎকৃষ্ট সাহিত্য হবে না, হয়ও না। না হলেও ‘হয়’—এই দাবি স্বৈরতান্ত্রিক। অন্য কাউকে ‘স্বৈরাচার’ বলে গালি দেওয়ার আগে নিজের স্বৈরাচারী মনোভাব আমরা লুকিয়ে কথা বলি কেন?  

‘ভাবো, ভাবা প্র্যাকটিস করো’—ঋত্বিক ঘটকের এ বার্তা তো শুধু টি–শার্টে লিখে ঘুরে বেড়ানোর নয়। মৃত সন্তান প্রসব করার মতো কবিতা নয়, জীবিত কবিতার প্রসব দরকার, তবেই না তিনি তরুণ কবি। শুধু কাতরামো করা কিছু বাক্য জড়ো করে লিখে ‘প্রেমের কবিতা’ বলে চালিয়ে যাওয়ার দিন তো অনেক দেখা গেল। ওতে কিছু হয়নি। জীবিত কবিতা জরুরি। যে কবিতার উচ্চারণ থেকে আমরা ওঙ্কার পেতে পারি। আদিতে ওঙ্কার ধ্বনি ছিলেন, ধ্বনি শব্দ ছিলেন, শব্দ বাক্য ছিলেন—এই শ্লোক কি আমরা জানি না? দায় শুধু কবিদের ওপরেই বর্তাবে কেন? গান-কবিতা-চলচ্চিত্র-নাটক বা সামগ্রিক শিল্পকলাতেই শীতকাল আজ। পৃথিবী শীতঘুমে বেঘোর। এই শীতনিদ্রা কবে ভাঙবে, কখন ভাঙবে? 

Related articles

Recent articles

spot_img