12 C
New York

শিক্ষাঙ্গনে যৌন হয়রানির সঙ্গে ক্ষমতার রাজনীতির সম্পর্ক কী

Published:

ছাত্রলীগ পরিচয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দাপট দেখানো ছাত্রনেতা–নেত্রীদের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, ঠিকাদারি, সিট–বাণিজ্যের মতো অপরাধের অভিযোগের পাশাপাশি যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগেরও কমতি নেই। ছাত্রলীগের এ ধরনের অপরাধের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বেশি এলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাও গত কয়েক বছরে আলোচনায় এসেছে। এমনকি কলেজ পর্যায়েও এ রকম অভিযোগ আছে।

কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রেই অপরাধের তদন্ত বা সাজা হয়েছে। যে হাতে গোনা কয়েকটি ঘটনায় সাজা হয়েছে, সেগুলো প্রধানত প্রশাসনিক শাস্তি, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বা স্থায়ী বহিষ্কার। কিন্তু ফৌজদারি অপরাধের যে নির্ধারিত সাজা, তা থেকে তারা রেহাই পেয়ে গেছে।

ক্ষমতাকাঠামোর এই ভারসাম্যহীনতা বা একচেটিয়াত্ব শুধু আওয়ামী লীগ নয়, অন্য যেকোনো দলের ক্ষেত্রেও যদি তৈরি হতো, তাহলেও যে একই হতাশাজনক পরিস্থিতি তৈরি হতো, তাতে সন্দেহ নেই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী এবং একজন সহকারী প্রক্টর গ্রেপ্তার হয়েছেন। তদন্ত হচ্ছে, তাঁদের বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ফল মিলেছে। এর আগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলপরীর কথা হয়তো সবার মনে আছে। ছাত্রলীগ নেত্রীদের হাতে র‍্যাগিং ও যৌন হয়রানির শিকার ফুলপরীর জন্যও সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলনে নামায় অভিযুক্তরা শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে। আশার কথা, প্রতিবাদের কার্যকারিতা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

● কামাল আহমেদ সাংবাদিক

Related articles

Recent articles

spot_img