10.1 C
New York

শহীদুল জহিরের গল্পে আবদুল গণিরা কেন রাজাকার হয়  

Published:

এ ছাড়া আরও দুটি উপন্যাসে শহীদুল জহির দুটি পৃথক গণিকে হাজির করেন। মুখের দিকে দেখির (২০০৬) গণি যুদ্ধের টানা ৯ মাস মুরগি চুরির মতলব নিয়ে ওত পেতে থাকা শিয়ালের মতো অন্তঃসত্ত্বা খৈমনদের বাড়ি আনাগোনা করে। ওদিকে খৈমনও গর্ভপাতের পর নিজ সন্তানকে সবজিবিক্রেতা স্বামীর চাঙারির মধ্যে কাপড়ের ‘পোঁটলা’ বানিয়ে লুকিয়ে রাখে; আর বিপদ এড়াতে মা ক্যাঙারুর মতো কোমরের নিচে জামার আড়ালে কাপড়ের পর কাপড় গুঁজে পেট ফুলিয়ে রাখে। এরপর একাত্তর সালে বাংলাদেশ মুক্ত হলে মুক্ত হয় শিশুটিও। সেই থেকে লোকে তাকে বিদ্রূপ করে ‘পোঁটলার পোলা’ বলে ডাকে। কারণ ‘[অয় তো] পোঁটলার ভিতরথন বাইরইছে, মায়ের প্যাটে হয় নাইকা!’

অন্যদিকে জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার গণি জনতার হাতে ধরা পড়ে এবং ভিক্টোরিয়া পার্কে ‘মব জাস্টিস’ বা গণরায়ে সাজা পায়। 

প্রশ্ন হলো, জহির কেন রাজাকার চরিত্র হিসেবে তিনটি গল্পেই একই নামের অবতারণা করেন। এটা কি নিছক খেয়াল, না কাকতালীয় ঘটনা, নাকি সচেতন সিদ্ধান্ত?

উত্তরে জহির আমাদের অস্পষ্টতার পানাপুকুর আরেকটু ঘুলিয়ে দেন। তিনি কাহিনিকথনের চতুর্থ দেয়াল ভেঙে মুখের দিকে দেখি উপন্যাসে এর কৈফিয়ত দেন এই বলে যে ‘রাজাকার কমান্ডারদের নাম আবদুল গণিই হয়’। নামের এই পুনরাবৃত্তির প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি রেজাউল করিমকে জানান, ‘আপনি যখন ছবি দেখতে যান, তখন একই লোক বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে। যেমন ফেরদৌস ও রিয়াজ…আপনি ওই বিভিন্ন চরিত্রেই গ্রহণ করেন।’

জহির কেন রাজাকার হিসেবে আবদুল গণিকেই বেছে নিলেন—এ নিয়ে আমারও একটা অনুভব আছে। জহিরের লেখা অনুবাদ করতে গিয়েই মূলত এই উপলব্ধি।

আমি মনে হয়, রাজাকার চরিত্র হিসেবে আবদুল গণি ও জনতার আদালত হিসেবে ভিক্টোরিয়া পার্ক—এই দুই তথ্যের মধ্যে ১৮৫৭ সালের লালবাগ সিপাহি বিদ্রোহের অস্ফুট আভাস আছে। এসবে উঠে এসেছে মহল্লাকেন্দ্রিক প্রচলিত কেচ্ছাকথন। আর তা লিখিত ইতিহাসকে মৌখিক ইতিহাসের বিপরীতে দ্বন্দ্বযুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Related articles

Recent articles

spot_img