3.3 C
New York

রিয়াল, ম্যান সিটি, বায়ার্নকে চোখ রাঙাচ্ছে যেসব ‘ছোট দল’

Published:

ইউরোপে শীর্ষ পাঁচ লিগে বরাবরই দাপট দেখায় স্বীকৃত পরাশক্তিরা। এই লিগগুলোয় শিরোপা লড়াই এতটাই একপেশে যে লেস্টার সিটি কিংবা নাপোলির লিগ জয়কে দেখা হয় রূপকথার গল্প হিসেবে। মৌসুম শুরুর আগে সম্ভাব্যতার সব নিরিখেও বলে দেওয়া যায় কোন তিন বা চারটি দল শিরোপা লড়াইয়ে থাকবে। মৌসুম শেষে এর ব্যতিক্রম হয় কদাচিৎ। এরপরও কেউ কেউ চমক দেখিয়ে চেষ্টা করে লড়াই জমিয়ে দিতে। হয়তো শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠে না।

৩৫ বা ৩৮ ম্যাচের ম্যারাথন দৌড়ে জেতার জন্য যে প্রাণশক্তি, উদ্যম আর অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তা না থাকায় একপর্যায়ে পিছিয়ে পড়তে হয় চমক দেখানো দলগুলোর। বরাবরের মতো এবারও শীর্ষ পাঁচ লিগে পরাশক্তিদের পাশাপাশি দাপট দেখাচ্ছে কয়েকটি ছোট দল। মৌসুম শুরুর আগে এই সব দল নিয়ে আলোচনা ছিল সামান্যই। কিন্তু মাঝ–মৌসুমে এসে দলগুলো জিইয়ে রেখেছে শিরোপার সম্ভাবনাও।

বায়ার লেভারকুসেন

বুন্দেসলিগা, বর্তমান অবস্থান শীর্ষে

গত মৌসুমে জেরার্দো সিওয়ানের অধীন প্রথম আট ম্যাচের মাত্র একটিতে জিতে ধুঁকছিল লেভারকুসেন। এমনকি চোখ রাঙাচ্ছিল অবনমনও। এমন পরিস্থিতিতে সিওয়ানকে ছাঁটাই করে লেভারকুসেন নিয়ে আসে রিয়াল মাদ্রিদের স্প্যানিশ কিংবদন্তি জাবি আলোনসোকে। এরপর আশ্চর্য এক জাদুর ছড়ি ঘুরিয়ে সেই দলকে নিয়ে মৌসুম শেষ করেন পয়েন্ট তালিকার ছয়ে থেকে। সে সাফল্য যে আকস্মিক চমক ছিল না, তা নতুন মৌসুমে এসে ঠিকই প্রমাণ করলেন আলোনসো।

১২ ম্যাচ শেষে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে আছে আলোনসোর দল। যেখানে ১১ জয়ের বিপরীতে একটি ড্র। সেই ড্রও আবার বায়ার্নের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায়। লেভারকুসেনের চেয়ে দুই পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ। লেভারকুসেনের এই উত্থানের পেছনে মূল কৃতিত্ব জাবির হলেও পুরো দল তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে খেলছে, তাও চোখে পড়ার মতো। এরই মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে দলকে খেলানোর জাবির কৌশলও। তবে জাবির সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে পারফম্যান্সের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। দারুণ ছন্দে থাকা বায়ার্ন ঘাড়ে ওপরই নিঃশ্বাস ফেলছে। তাই একটি ভুলই লেভারকুসেনকে ঠেলে দিতে পারে শিরোপা দৌড় থেকে। তাই শেষ পর্যন্ত লেভারকুসেন এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারে কি না, সেটাই দেখার অপেক্ষা।

জিরোনা

লা লিগা, বর্তমান অবস্থান দ্বিতীয়

লা লিগায় ১৫ ম্যাচ শেষে শীর্ষে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। এটা অবশ্য চমকিত হওয়ার মতো কোনো তথ্য নয়। অস্বাভাবিক কাজটা করে দেখিয়েছে জিরোনা। ১৩ ম্যাচ শেষেও শীর্ষে ছিল তারাই। রিয়াল বর্তমানে শীর্ষে আছে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে। ১৫ ম্যাচ শেষে ১২ জয়, ২ ড্র এবং ১ হার নিয়ে দুই দলেরই পয়েন্ট সমান ৩৮। তবে রিয়ালের গোল ব্যবধান ২৪ আর জিরোনার ১৬।

দারুণ এক মৌসুম কাটানো জিরোনা অবশ্য মাত্র চতুর্থবারের মতো স্প্যানিশ ফুটবলের শীর্ষ স্তরে খেলতে এসেছে। ১৭ বছর আগেও আরও ৩৬৪টি আঞ্চলিক দলের সঙ্গে চতুর্থ স্তরে খেলেছিল জিরোনা। জিরোনার এই উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কোচ মাইকেল। ২০২১ সালের গ্রীষ্মে দায়িত্ব নিয়ে জিরোনাকে দ্বিতীয় বিভাগ থেকে শীর্ষ লিগে নিয়ে আসেন এই স্প্যানিশ কোচ। তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে দলকে দারুণভাবে দাঁড় করান মাইকেল। একইভাবে স্থানীয় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সঙ্গে মেধাবী আন্তর্জাতিক ফুটবলারদের দারুণ একটি সমন্বয় তৈরি করেছেন তিনি।

নিস

লিগ আঁ, বর্তমান অবস্থান দ্বিতীয়

গতকাল রাতে ফ্রেঞ্চ লিগ ‘আঁ’তে প্রথম হার দেখেছে নিস। এই হার বড় ধাক্কাই নিসের জন্য। আজ ম্যাচে পিএসজি জয় পেলে নিস পিছিয়ে পড়বে ৫ পয়েন্টে। তবে এই এক ম্যাচের ধাক্কা বাদ দিলে ফরাসি লিগে এবার শুরু থেকেই পিএসজির চেয়ে এগিয়ে ছিল নিস। ১৪ ম্যাচে ৮ জয়, ৫ ড্র ও ১ হারে তাদের পয়েন্ট এখন ২৯। এক ম্যাচ কম খেলা পিএসজির পয়েন্ট ৩০। শেষ পর্যন্ত পিএসজির সঙ্গে পেরে না উঠলেও নিস এ পর্যন্ত যা করেছে, সেটা ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি পিএসজির মাঠে থেকে ৩–২ গোলের দুর্দান্ত এক জয় নিয়েও ফিরেছে তারা। আপাতত পিছিয়ে পড়লেও কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, তা ভালোই জানা আছে দলটির।

অ্যাস্টন ভিলা

প্রিমিয়ার লিগ, বর্তমান অবস্থান চতুর্থ

পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ লিগ বিবেচনা করা হয় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগকে। ব্যাপক অর্থ, পরিকল্পনা ও কৌশলকে সঙ্গী করে এখানে শিরোপা প্রত্যাশী দলগুলোকে মাঠে নামতে হয়। তবে এরপরও এই লিগে সাফল্য পাওয়া সবচেয়ে অনিশ্চিত। নইলে চেলসি বা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো দলগুলোকে সেরা চারে থাকার জন্য এত সংগ্রাম করতে হয় কী করে! এর মধ্যেও চলতি মৌসুমে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে পয়েন্ট তালিকার চারে অবস্থান করছে অ্যাস্টন ভিলা।

ইউরোপা লিগের অন্যতম সফল কোচ উনাই এমেরির হাত ধরেই মূলত ভিলা পার্কের ক্লাবটির এই বদলে যাওয়া। গত মৌসুমে স্টিভেন জেরার্ড ছাঁটাই হওয়ার আগে ১১ ম্যাচের মাত্র ২টিতে জিতেছিল অ্যাস্টন ভিলা। এমনকি পয়েন্ট তালিকায় ক্লাবটির অবস্থান ছিল ১৬ নম্বরে। সেখান থেকে এমেরির হাত ধরে অনবদ্য এক যাত্রা শুরু করে অ্যাস্টন ভিলা এবং মৌসুম শেষ করে ৭ নম্বরে থেকে। গত মৌসুমের পর এবারও দারুণ গতিতে ছুটছে অ্যাস্টন ভিলা। চারে থাকা ক্লাবটি হারিয়েছে চেলসি–টটেনহামের মতো দলগুলোকে। এমনকি ব্রাইটনের মতো দলকে উড়িয়ে দিয়েছে ৬–১ গোলের বড় ব্যবধানে। এখন দলটির মূল চ্যালেঞ্জ ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। প্রিমিয়ার লিগের মতো কঠিন প্রতিযোগিতায় এই কাজটিই সবচেয়ে কঠিন।

Related articles

Recent articles

spot_img