3.3 C
New York

রাষ্ট্রীয় পুরস্কারগুলো কারা পান, কেন পান, কীভাবে পান

Published:

শুধু ঘটনার বা ব্যক্তির বিবরণ উপস্থাপন করা গবেষকের কাজ নয়। ‘কেন’-এর উত্তর খোঁজা, যে কারণ বা প্রেক্ষাপট মানুষের অজানা, তা উদ্‌ঘাটন করাই গবেষকের কাজ।

ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক, ড. শুভ বসু ইংরেজিতে বঙ্গবন্ধুর জীবনী লিখছেন। আমিও তথ্য দিয়ে সহায়তা করছি এই ভালো কাজে। বইটি প্রকাশের জন্য ইতিমধ্যেই কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেসের চুক্তি হয়ে গেছে। এটা লিখতে গিয়ে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের বইসহ বাংলাদেশের ‘গবেষণাধর্মী’ সব বই, তিনি পড়ে ফেলেছেন।

তিনি  মন্তব্য করেছেন, ‘একটা বই পাওয়া গেল না, যাতে গবেষণাপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।’ বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত এমন একজন ‘গবেষক’, ড. শুভ বসুকে তাঁর বই উপহার দিয়েছেন। বই পড়ে তিনি আমাকে বললেন ‘এ বইয়ের লেখক তো একেবারে ক-অক্ষর গোমাংস’! আমি সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলাম, ‘আপনার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যিনি সাহিত্যে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছেন, আপনাকে তাঁর দুটি কবিতা শোনাই?’

১. এপাং ওপাং ঝপাং / সুর ধরেছে পটাঙ
ব্যাঙ ডাকে গ্যাঙ গ্যাঙ/ হাতির কতো বড় ঠ্যাং ।।

২. নিশিরাতে জেগে দেখি, গাছের ডালে কাক, শালা আমিতো অবাক!!
চোর ঢুকেছে ঘরের ভেতর, দরজা ছিলো ফাঁক? শালা আমিতো অবাক!!

কবিতা শুনে, সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পণ্ডিতমশাই’ গল্পে পণ্ডিতমশাই যখন ছাত্রদের মধ্যে, তাঁর আট সদস্যের পুরো পরিবার সাহেবের কুকুরের একটা ঠ্যাংয়ের সমান—এই হিসাব উপস্থাপন করেন, তখন যে রকম নীরবতা নেমে এসেছিল, প্রফেসর বসুর মুখেও ঠিক সেই রকম নীরবতা ভর করেছিল। আমি তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, ‘অন্ধকার এখন চারদিকেই, প্রফেসর বসু। বস্তুত, এ এক ঘোর অমাবস্যার রাত’।

Related articles

Recent articles

spot_img