10.2 C
New York

রাষ্ট্রদূতদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা: পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ৯ দফা নির্দেশনা

Published:

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে কূটনীতির সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ টেনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সামগ্রিকভাবে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, মানবাধিকার, শ্রমিক অধিকার এবং গণতন্ত্রের বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইতিবাচকভাবে যুক্ত থাকা, ভূরাজনৈতিক ও ভূ–অর্থনৈতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের স্বার্থে কোন দিকে বিশেষভাবে ঝুঁকে না পড়ে সবার সঙ্গে যুক্ততা এবং নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মধ্য দিয়ে কৌশলগত অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করা এবং রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, বিশেষ করে প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য জোরালো প্রয়াস এবং এতে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় সরকারের আগামী দিনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

অর্থনীতির চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক কূটনীতিক বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানো এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সরকারের সামনের দিনগুলোতে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে এ বছর থেকে বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারকে রাশিয়া, চীনের মতো বড় অংশীদারদের ঋণ ফেরত দেওয়া শুরু করতে হচ্ছে। ঋণ শোধের বিষয়টি কাকতালীয় এমন একসময়ে হচ্ছে, যখন বৈশ্বিক অর্থনীতির ধাক্কা বাংলাদেশকে ভোগাচ্ছে। ফলে ডলার–সংকট মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগী এবং বন্ধু দেশগুলোর সহায়তা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। আবার বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে সুশাসন, শ্রম অধিকারের উদ্বেগ দূর করার মতো বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়াও জরুরি।

মানবাধিকার, বিশেষ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ নাগরিক অধিকারের চর্চা, শ্রম অধিকার—এ বিষয়গুলো সরকারের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এক কূটনীতিক বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি ভবিষ্যতে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতায় মানবাধিকার অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে মানবাধিকার ও সুশাসনের নানা বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর যেসব উদ্বেগ রয়েছে, তা দূর করার লক্ষ্যে তাদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে যুক্ত হওয়াটা অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

ভূরাজনীতি ও ভূ–অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন, বিএনপির বর্জনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা ও বাণিজ্যের নিষেধাজ্ঞা দেবে এমন জল্পনা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই ঘটেনি। আবার নির্বাচনের পর একতরফা নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমের গুরুত্বপূর্ণ তিন পক্ষের অবস্থানও বদল হয়নি। বিশেষ করে নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইইউ তাদের হতাশা স্পষ্ট করেই জানিয়েছে। ফলে গণতন্ত্র ও সুশাসন নিয়ে দুই পক্ষকে দূরত্ব দূর করতে যে সামনে কাজ করতে হবে, সেটা বলাই বাহুল্য। আর এ বিষয়টি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে ৯টি নির্দেশনা রাষ্ট্রদূতদের দিয়েছেন, তার শুরুতেই এর উল্লেখ রয়েছে।

Related articles

Recent articles

spot_img