13.2 C
New York

রাজিয়া হার মানলেন দারিদ্র্যের কাছে

Published:

রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ রাজিয়ার সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। মাটির ঘরের দাওয়ায় তাঁর ভাই ফজলুল হক তখন বসা। ভাইকে ভেতরে ডেকে নিয়েছিলেন রাজিয়া। হাসতে হাসতে ফজলুল বলেছিলেন, ‘রাজিয়া, ছেলের ফেসকাটিং এত সুন্দর, নাক টানতি হবে না রে। হাত-পাও সিরাম সুন্দর। লম্বা লম্বা।’ হঠাৎ রাজিয়া বলেন, তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না। তখনই ৯৯৯-এ ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকে রাজিয়ার পরিবার।

তারপর? মৌতলা ইউনিয়ন থেকে কালীগঞ্জ উপজেলার দূরত্ব ১২ কিলোমিটার। কালীগঞ্জ থেকে রাজিয়া আর কথা বলছিলেন না, নড়াচড়াও বন্ধ। কিন্তু তাঁদের গন্তব্য আরও দূরে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসকেরা তাঁদের জানান, রাজিয়া পথেই মারা গেছেন। রাজিয়ার মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরেন ফজলু। থামেন তাঁদের বাড়ির সামনেই। এই বাড়ির সামনে কতবার জাতীয় দলের হয়ে খেলে জেতার পর গাড়ি এসে থেমেছিল! গাড়ির দরজা খুলে রাজিয়া যখন নেমেছিলেন, তখন চারদিকে কত উচ্ছ্বাস।

আমার মাথায় কত–কী যে ঘুরছে তখন! মনে হলো, আমাদের রাজিয়া জন মিলিংটন সিঞ্জের আইরিশ ট্র্যাজেডি রাইডার্স টু দ্য সি–এর বার্টলি, মোরিয়ার ছোট ছেলে। বড় ছেলে মাইকেল সাগরের পেটে গেছে, তার শার্ট আর মোজা তীরে ভেসে এসেছে। ৯ দিন হলো, তবু সে উত্তাল সাগরের রোষ কমে না। ওদিকে বাড়িতে নেই একদানা খাবার। হয় গোটা পরিবারকে না খেয়ে মরতে হবে, নয়তো ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সাগরেই মাছ ধরতে যেতে হবে বার্টলিকে। মা বারবার বার্টলিকে টেনে ধরছেন, কিন্তু…খাবার জুটবে কোথা থেকে? বেপরোয়া বার্টলি ঘর থেকে বেরোলেন আর ফিরলেন না। আমাদের রাজিয়া তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েও মাঠে নেমেছিলেন। খেললে মাসে আট হাজার টাকা, নইলে হাত শূন্য। নিজে কী খাবেন, গর্ভের শিশুটি, মা-ভাই ওরা?

Related articles

Recent articles

spot_img