15.5 C
New York

রক্তাক্ত স্বাধীনতার মূল্য | প্রথম আলো

Published:

ব্যবসা থেকে আমলাতন্ত্রের মানুষদের, জেলা প্রশাসক থেকে সচিব, ভূমি কর্মকর্তা থেকে তহশিলদার, সিটি করপোরেশন থেকে ওয়াসা–ডেসার কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের কি আমরা এতটাই অতিরিক্ত স্বাধীনতা দিয়েছি যে তাঁরা দুর্নীতি করার যথেচ্ছ সুযোগ পেয়ে গেছেন? কোথাও ঘুষ না হলে কাজ হয় না। ব্যাংক আর শিল্পকারখানার মালিকদের কি আমরা এতটাই স্বাধীনতা দিয়েছি যে তাঁদের অনেকে টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করতে থাকলেও কিছুতেই আর সেটা রোধ করা যাচ্ছে না।

ইয়র্কশায়ারের এক ছিঁচকে মাস্তান শুধু মুর্শিদাবাদের খাজাঞ্চিখানা থেকে কোটি কোটি টাকার হীরা–জহরত লুট করে ইংল্যান্ডে পাঠিয়েছিল, এখন বাংলাদেশের লুটেরারাও বছরের পর বছর একই কাজ করে চলেছে। আমাদের তা মেনেও নিতে হয়েছে। বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধের জন্য রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা কোথাও কার্যকর হচ্ছে না। প্রচুর টাকা বিদেশে ঘরবাড়ি করার জন্য চলে যাচ্ছে, রোধ করার কোনো ব্যবস্থাই নেই। অথচ দিন দিন সাধারণ নাগরিকদের ওপর করের চাপ বাড়ানো হচ্ছে। তা দিয়ে দেখা মুষ্টিমেয় লোকের বিলাসবহুল গাড়ি–বাড়ি হচ্ছে। সুনাগরিকদের জন্য এ দেশে কোনো ব্যবস্থাই ঠিকঠাক চলে না।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার শোচনীয় পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিনই খবরের কাগজে নানা নিবন্ধ ও সংবাদ ছাপা হয়। জাতীয় গণমাধ্যমগুলোর স্বাধীনতা কোন অবস্থায় আছে, তা তো আমরা প্রতিমুহূর্তেই বুঝতে পারছি।

এ দেশের মানুষ এবং তাদের সাংস্কৃতিক অধিকারের জন্য একদিন বাঙালি স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছিল। সেই সংগ্রাম ছিল রক্তাক্ত। সেই রক্তাক্ত স্বাধীনতার মূল্য কি আমরা দেব না?

মামুনুর রশীদ: সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

Related articles

Recent articles

spot_img