19.5 C
New York

যে কারণে এটা জারদারি ও মার্টিনদের সময়

Published:

এই ঔপনিবেশিক জের টিকিয়ে রাখতেই কি তবে রাজনীতিতে সততা ও স্বচ্ছতার চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কথিত ‘জাতীয়’ আবেগ, ‘জাতীয়’ গৌরব, নেতৃত্বের পুরুষালি ভঙ্গি, ‘অপর’ ধর্ম ও ‘অপর’ জাতির বিপরীতে শ্রেষ্ঠত্বের কল্পিত কাহিনি? সে কারণেই এসব কৌশল কি ভোটের রাজনীতির পাটাতন?

এ রকম প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ শুনিয়েই হয়তো আরএসএস পরিবারের একজন ভারতে নেহরুকে অতিক্রম করে যাবেন কয়েক মাস পর। একই পথে পাকিস্তানে ‘মি. টেন পার্সেন্ট’কে দেখে যেতে হবে দেশের সর্বোচ্চ পদে, শ্রীলঙ্কায় গোতাবায়ারা সিংহলি সমাজকে শোনাবেন ‘ফেরা’র স্বপ্নের কথা। 

সব মিলে এ যেন নিকোলো মেকিয়াভেলির ‘প্রিন্স’দের সোনালি সময়। রাজনীতি যখন স্রেফ ‘প্রিন্স-লরেঞ্জোনামা’। যে লরেঞ্জোনামা দাঁড়িয়ে আছে রূঢ় এক লক্ষ্যের ওপর: ‘জয়ী হতে হবে, যেকোনো মূল্যে’। রাজনীতিকে নৈতিক পরিসর হিসেবে না দেখে যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে যে দেখতে চায়। সুনামের চেয়েও শক্তি সেখানে জরুরি। 

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গণতন্ত্রের দুর্দশা এবং চীন ও রাশিয়া মডেলের উত্থানও একইভাবে মেকিয়াভেলির শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করছে। যে শ্রেষ্ঠত্বের মধ্যে রাষ্ট্র, রাজনীতি ও জনমনের আমূল সংস্কার ছাড়া ভোটব্যবস্থা অনেকখানি অর্থহীন হয়ে গেছে। ভোট এখানে আসিফ জারদারি ও নওয়াজ শরিফদের ঠেকাতে পারেনি। ভোট এখানে নির্বাচনী বন্ডের মতো রাজনৈতিক দুর্নীতি রুখতে পারে না এবং দুর্নীতিগ্রস্তদেরও থামাতে পারে না। 

ভোটের মাধ্যমেই দূর-পল্লির চিকিৎসাসংকটে থাকা জনগণের ‘প্রতিনিধি’ বনে যান লন্ডনের বিলাসী বাড়ি আর বিপুল সম্পদের মালিক। ভোটভিত্তিক রাজনীতির এ রকম ফাঁকফোকর নিয়ে মার্টিন ও জারদারিরা কি আদৌ জনগণকে পুনর্ভাবনার সুযোগ দেবে? বাংলাদেশে যখন স্বাধীনতার ৫৩ বছর পূর্তি হচ্ছে, ভারত-পাকিস্তানে ৭৭ এবং শ্রীলঙ্কাতে ৭৬ বছর পার হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতির জন্য দক্ষিণ এশিয়া আর কত অপেক্ষা করবে?

আলতাফ পারভেজ  লেখক ও দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসবিষয়ক গবেষক

Related articles

Recent articles

spot_img