5.6 C
New York

যে উপন্যাসে আছে ভাষা আন্দোলনের জন্য ‘বড় আপা’র জেলে যাওয়ার গল্প

Published:

মমতাজ বেগমের দিকে তাকিয়ে ইলা মিত্র বললেন, ‘তোমাকে আমি বেথুনে পড়ার সময় দেখেছি মনে হয়। নিচের ক্লাসে পড়তে। একটা শাড়ি দিয়ে ঘেরা ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে আসতে কলেজে।’

মমতাজ হেসে বললেন, ‘আমার বাবার শর্ত ছিল সেটা। প্রথমে তো কলেজে পড়াতেই চাননি। বলেছেন, মেয়েদের বাড়ির বাইরে যেতে নেই। স্কুল পাস করেছ, এই তো যথেষ্ট। এখন বিয়ের জন্য প্রস্ত্তত হও। পড়াশোনা যা করার বাড়িতেই করো।’

‘খুব আশ্চর্যের কথা তো। তিনি হাইকোর্টের জজ ছিলেন, স্ত্রী শিক্ষিত এবং স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। তাঁর পক্ষে এমন রক্ষণশীল হওয়া বেশ অবাক করার মতো ব্যাপার।’

মমতাজ বললেন, ‘কিন্তু আমার জেদের কাছে তিনি হেরে গেলেন।’

ইলা মিত্র বললেন, ‘জীবনে মাঝে মাঝে জেদের দরকার পড়ে। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য। আমাদের যা ন্যাঘ্য পাওনা, তা পেতে হলেও হইচই করতে হয়, জেদ দেখাতে হয়।’

মমতাজ বললেন, ‘আমাকে জীবনে একবার না, কয়েকবার জেদ দেখাতে হয়েছে। আর প্রতিবারই আমি জিতেছি। যা চেয়েছি, তা পেয়েছি এই পর্যন্ত।’

‘তুমি খুব সৌভাগ্যবতী। সবার ক্ষেত্রে এমন হয় না। কোথাও অপূর্ণতা থেকেই যায়। আমি সব শুনব। এখন বিশ্রাম নাও।’ তারপর তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তোমাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে। কখন ধরেছে এরা? কোথা থেকে?’

মমতাজ বললেন, ‘সকালে। নারায়ণগঞ্জে আমার স্কুলের সামনে থেকে।’

‘তারপর কোথায় নিয়ে গেল তারা?’

মমতাজ বললেন, ‘মহকুমা অফিসারের আদালতে।’

ইলা মিত্র বললেন, ‘তুমি বেঁচে গিয়েছ, থানায় নেয়নি। চব্বিশ ঘণ্টা আটক রেখে আদালতে হাজির করেনি।’ বলেই ইলা মিত্র শিউরে ওঠেন। যেন ভয়ংকর কিছু দেখছেন।

মমতাজ বললেন, ‘কেন? থানায় নিলে কী হতো?’

Related articles

Recent articles

spot_img