13.1 C
New York

মুক্তিযুদ্ধের অজানা অধ্যায় | প্রথম আলো

Published:

৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ ও পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় ওয়ার্কিং কমিটির ৩৯ সদস্য সভায় উপস্থিত ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় দলের সাংগঠনিক বিষয়, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর মুক্তি এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা হয়। নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম কামারুজ্জামান সভায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। সভায় নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত করা হয় এবং পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের নতুন নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’।

বক্তাদের আলোচনা শুনে ভারতীয় পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন, ওয়ার্কিং কমিটি ও মন্ত্রিপরিষদের মধ্যে বেশ বড় রকমের মতপার্থক্য বিদ্যমান। পুরোনো সদস্যরা রাজনীতি, অর্থনীতি ও রণনীতি বিষয়ে দলের প্রাধান্য রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে অধিকাংশের সংসদীয় বিষয়, কার্যসম্পাদনের কূটকৌশল ও যুদ্ধ পরিচালনার জটিল ব্যবস্থা সম্পর্কে খুব কম ধারণা রয়েছে বলে তাঁদের মনে হয়েছে।

শিলিগুড়ি সম্মেলন সফলভাবে সমাপ্তিতে আওয়ামী লীগের মধ্যে নেতৃত্বের কোন্দল ও কলহ আপাতদৃষ্টে শীতল হয়ে যায় এবং দলে ভাঙন এড়ানো সম্ভব হয়। সম্মেলন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ও তাঁর সরকারকে দৃঢ় নৈতিক ভিত্তি প্রদান করে। প্রবাসী সরকার, বিশেষ করে তাজউদ্দীন আহমদের সামনে যে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছিল, তা দূর হয়। বাহ্যত প্রধানমন্ত্রী-বিরোধীদের যত শক্তিশালী মনে হয়েছিল, বাস্তবে তা ভুল প্রমাণিত হয়। সম্মেলনে সরকার গঠন ও পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ় প্রমাণিত হয়। স্বাধীনতাযুদ্ধের বাকি সময় তাঁকে আর কোনো বড় বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়নি। অপর দিকে সদস্যরা তাঁদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও সন্দেহ সম্মেলনে প্রকাশ করে নিজেদের হালকা করেন। সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের অনেক ত্রুটিবিচ্যুতি প্রকাশ পায়, যা শুধরে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়া সম্মেলনের সফল পরিসমাপ্তিতে ভারত সরকারও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

Related articles

Recent articles

spot_img