8 C
New York

মিয়ানমার সীমান্তে তীব্র লড়াই, পালিয়ে এলেন ৬৮ সীমান্তরক্ষী

Published:

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, গত শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সীমান্তের ওপারে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। সংঘর্ষ একটানা বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলে।

গতকাল ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তে সরেজমিনে দেখা যায়, সীমান্তের ৩৪ ও ৩৫ নম্বর পিলারের ওপারে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির দুটি চৌকি রয়েছে। চৌকিগুলো হলো তুমব্রু রাইট ক্যাম্প ও ঢেঁকিবনিয়া সীমান্তচৌকি।

সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় লোকজন নানাভাবে খবরাখবর পাচ্ছেন। তাঁরা জানান, ভোরে এই চৌকিগুলোর মধ্যে তুমব্রু রাইট ক্যাম্পে আক্রমণ করে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। এ সময় আরাকান আর্মির সঙ্গে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। দুপুর ১২টা ও বেলা ৩টার দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে সীমান্তের ওপারে গোলাবর্ষণ করে বলে জানা যায়।

নাইক্ষ্যংছড়ির পশ্চিমকুল জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ফরিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল বিকেল পাঁচটার পর গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাননি।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি ও ৩১ জানুয়ারি ঘুমধুম সীমান্তের ওপার থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। সে সময় মর্টার শেল ও গোলার অন্তত চারটি অংশ তুমব্রু, কোনারপাড়া ও পশ্চিম ঘুমধুমে এসে পড়ে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ সূত্র বলছে, সংঘর্ষের মধ্যে গতকাল ভোরে বিজিপির ১৪ জন সদস্য সীমান্তের ওপার থেকে নাইক্ষ্যংছড়িতে পালিয়ে আসেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর একই সীমান্ত দিয়ে বিজিপির আরও ৫৪ জন সদস্য পালিয়ে আসেন। বিজিবি তাদের নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে আহত ১৫ সদস্যকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পুলিশের ঘুমধুম তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, নাইক্ষংছড়িতে পালিয়ে আসা আহত কয়েকজন বিজিপি সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে আরাকান আর্মির কোনো সদস্য সীমান্তের ওপার থেকে বাংলাদেশে এসেছে, এমন তথ্য তাঁর কাছে নেই।

Related articles

Recent articles

spot_img