9 C
New York

মিয়ানমার কি ভেঙে যাবে | প্রথম আলো

Published:

সশস্ত্র বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় সামরিক জান্তার ব্যাপক অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু এবারের গৃহযুদ্ধের চরিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। বিবিধ অসন্তোষ সত্ত্বেও সংখ্যাগরিষ্ঠ বামাররা কখনো সেনাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেননি। যুদ্ধে সাফল্য পাচ্ছে প্রধানত দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ গোষ্ঠীভিত্তিক দলগুলোই, কিন্তু বামার তরুণদের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো এ লড়াই অনেকটা জনযুদ্ধের রূপ নিয়েছে। তা ছাড়া এই প্রথম জান্তাকে সারা দেশে সশস্ত্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

যুদ্ধের বিবরণে না গিয়ে এটুকু বলাই যথেষ্ট হবে যে সম্প্রতি দেশের উত্তর-পূর্ব অংশে চীনের সঙ্গে সীমান্তবর্তী বেশ কটি সেনাচৌকি বিদ্রোহীদের দখলে গেছে। কয়েকটি শহর তারা ছিনিয়ে নিয়েছে সেনাদের কাছ থেকে এবং কিছুসংখ্যক জান্তা সেনা আত্মসমর্পণ করেছে বিদ্রোহীদের কাছে। প্রশ্ন উঠছে, এথনিক বিদ্রোহীদের বিজয় অর্জনের মাধ্যমে কি ভেঙে যাবে মিয়ানমার?

রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জান্তা নিযুক্ত প্রেসিডেন্ট মিন্ট সুয়ে পর্যন্ত আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন, চীনের সঙ্গে সীমান্ত অঞ্চলে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে, সরকার যদি তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তাহলে মিয়ানমার ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে যেতে পারে।

মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ একদিন শেষ হবে এবং যখন শেষ হবে, দেশটি তখন পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে, তেমন সম্ভাবনা নেই। সম্ভাব্য দুটি বিকল্প পথে শেষ হতে পারে এই সংঘাত। এক, সামরিক জান্তার পরিপূর্ণ পরাজয়ের মাধ্যমে দেশটির সম্পূর্ণ ‘বলকানাইজেশন’। সে ক্ষেত্রে বামার সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরাবতী অববাহিকা থাকবে মিয়ানমার বা বার্মা হিসেবে।

অন্যান্য জাতিসত্তাভিত্তিক সাতটি ‘রাজ্য’ প্রতিটি স্বতন্ত্র স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হবে। দুই, একটি প্রকৃত ফেডারেল-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ বামার জনগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সরকার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করবে, তবে সেনাবাহিনীর সর্বাধিপত্য থাকবে না। সংখ্যালঘু জাতিসত্তাভিত্তিক রাজ্যগুলো এ ব্যবস্থায় তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বায়ত্তশাসন অর্জন করবে।

Related articles

Recent articles

spot_img