13.2 C
New York

মন্ত্রীর বাড়িতে খুনি: যে ঘটনা ছিল এরশাদের সামরিক শাসনের উপলক্ষ

Published:

তখন ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিম। তিনিও ইমদুকে ধরার অভিজ্ঞতা লিখেছেন। ‘মনে পড়ে মেলবোর্ন ভুলিনি তো ঢাকা’ নামের স্মৃতিকথায় তিনি লিখেছেন, ‘সকাল ন’টা বাজতে একটু বাকি। আমি বাসার অফিস রুমে একা একা বসে কাজ করছি। এমন সময় আমার দেহরক্ষী হাবিলদার কাদের ঘরে ঢুকে সালাম ঠুকে দাঁড়াল। একটুখানি ঝুঁকে আমার কানের কাছে মুখ এনে বলল, স্যার, ইমদুকে ফলো করার জন্য যাকে ডিউটি দেওয়া হয়েছে, সেই খালেক হাবিলদার আপনার সঙ্গে দেখা করতে চায়। কী নাকি খুব জরুরি খবর আছে।’ এরপর খালেক পকেট থেকে তার সচিত্র আইডি কার্ড বের করে দেখিয়ে প্রথমেই বলল, স্যার, এই মুহূর্তে আপনি ছাড়া আর কেউ আমাকে সাহায্য করতে পারবে না।

তারপর খালেক যা বলল তা সংক্ষেপে এই, গাজীপুর মহকুমার কালীগঞ্জ থানার কুখ্যাত সন্ত্রাসী, সাতটি খুনের মামলাসহ অনেক জঘন্য অপরাধের মামলার আসামি ইমদাদুল হক ওরফে ইমদুকে ফলো করার জন্য আদেশ পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে সে ছায়ার মতো অনুসরণ করে আসছে। আজ ঢাকা শহরের এক জনাকীর্ণ এলাকায় ইমদুকে হঠাৎ একা দেখে চমকে ওঠে খালেক। সঙ্গে সঙ্গে কাঁধের ব্যাগ থেকে ওয়্যারলেস সেট বের করে নিকটবর্তী থানা থেকে রিএনফোর্সমেন্ট চায় সে। অল্প কিছু সশস্ত্র সেপাই আসতে আসতে ইমদু বোধ হয় বাতাসে গন্ধ পেয়ে মুহূর্তেই হাওয়া হয়ে যায়। তারপর খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ তাকে মিন্টো রোডের কাছে আবিষ্কার করে খালেক। এদিকে ইমদুও দেখে ফেলে তাকে। তারপর দ্রুত পা চালিয়ে ইমদু গিয়ে ঢুকে পড়ে অভিজাত মিন্টো রোড এলাকার এক বাড়িতে। ঢুকেই ওই বাড়ির প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেয় ভেতর থেকে।’

এরপর মোফাজ্জল করিম বইটিতে পুলিশের বিভিন্ন মহলে যোগাযোগের বর্ণনা দিয়েছেন। তেমন কারও সাড়াই পাচ্ছিলেন না। তারপর লিখেছেন, ‘এমন সময় দেখি এসপি ফরিদের গাড়ি এসে থামল বারান্দার নিচে। তাকে কেবল সবকিছু খুলে বলতে শুরু করেছি, এমন সময় ওপর থেকে বাবুর্চি ফারুক দৌড়াতে দৌড়াতে নিচে নেমে এসে জানাল, ওপরে বেডরুমে লাল টেলিফোন বাজছে অনেকক্ষণ ধরে। ধরতেই শুনি অপর প্রান্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. আব্দুল মতিনের গলা। তিনি খুব শান্ত কণ্ঠে জানালেন, তাঁর কাছে খবর এসেছে, একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী পুলিশের তাড়া খেয়ে মন্ত্রী কাশেম সাহেবের বাসায় আশ্রয় নিয়েছে। আর আমার কাছে সাহায্য চাইতে গেছে সাদাপোশাকের একজন হাবিলদার। আমি কী ব্যবস্থা নিয়েছি এবং এখন পরিস্থিতি কী জানতে চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমি তাঁকে সবই বললাম আমার ব্যর্থ প্রচেষ্টাসহ। শুনে মন্ত্রী মহোদয় বললেন, এত বড় একটা খুনি সন্ত্রাসীকে পাকড়াও করার দায়িত্ব আমি আপনাকে দিচ্ছি। এক্ষুনি ডিএমপির ফোর্স রিপোর্ট করবে আপনার কাছে। প্রয়োজনবোধে মন্ত্রীর বাড়ির দরজা ভেঙে, গুলি চালিয়ে আসামিকে জীবিত অথবা মৃত আটক করবেন আপনি। এরপর তিনি জুড়ে দিলেন আরেকটি বাক্য, প্রেসিডেন্ট সাহেবের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। তিনিই এই নির্দেশ দিয়েছেন।’

Related articles

Recent articles

spot_img