25.6 C
New York

মদ্যপান যেভাবে হারাম করা হয়েছিল

Published:

কিছু সাহাবি এ আয়াত নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তাঁরা মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন, যারা এত দিন মদ খেয়েছে এবং যারা মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের কী হবে? মহানবী কোনো উত্তর দিলেন না, তিনি আল্লাহর উত্তরের অপেক্ষায় থাকলেন। এরপর আবারও আয়াত নাজিল হলো, ‘যারা ইমান আনে ও ভালো কাজ করে, তাদের ওপর কোনো পাপ নেই, যা তারা আগে আহার করেছে, যখন তারা ভবিষ্যতে তা পরিত্যাগ করে, ইমান রাখে ও ভালো কাজ করে; আবার সংযত থাকে এবং বিশ্বাস স্থাপন করে। আবার সংযত থাকে ও ভালো কাজ করতে থাকে। আল্লাহ এরূপ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৯৩)

এ আয়াতের অর্থ, আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী সাহাবিদের মাফ করে দিয়েছেন। এ ঘটনার পর হজরত উমর (রা.) সবাইকে বোঝাতে লাগলেন, আর কোনো কথা নেই। আজ থেকে আমরা কেউ মদ্যপান করব না। এরপর সাহাবিরা সবাই মিলে মদের পাত্র ও শরাবখানাগুলো ভেঙে দিতে লাগলেন। মদ হারাম হয়ে গেল।

এ ঘটনা থেকে বেশ কিছু বিষয় শেখার আছে। প্রথমত, আল্লাহ তাআলা মদ্যপানের মতো একটি ঘৃণিত কাজ একবারে হারাম করেননি। করলে হয়তো অনেকের জন্য এটি পরিত্যাগ করা কষ্টকর হতো। পণ্ডিতদের অভিমত, আল্লাহ তাআলা মদ ধীরে ধীরে হারাম করেছিলেন, যাতে সাহাবিরা তাঁদের অভ্যাসগুলো নিজে থেকে পরিত্যাগ করেন। আর হয়েছিলও তা-ই।

এখানে হজরত উমর (রা.)-এর ভূমিকা উল্লেখ করার মতো। অন্য ব্যক্তিরা যেখানে সন্দেহ পোষণ করছিলেন, সেখানে তিনি সহজে বুঝতে পেরেছিলেন কাজটি ঠিক হচ্ছে না। নারীদের পর্দা করার ব্যাপারেও তাঁর অভিমত ঠিক দিকে ছিল। বস্তুত এসব কারণে তাঁর উপাধি হয়েছিল ‘ফারুখ’, যার অর্থ সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।

অনুবাদ: সাজিদ আল মাহমুদ

Related articles

Recent articles

spot_img