1.5 C
New York

মণিপুরী সম্প্রদায়ের মেয়ে অনিমার কাহিনি আছে যে উপন্যাসে  

Published:

আনিস আনমনা হয়ে বললেন, ‘কই, যে দিয়েছে, সে—সে তো আমি নই।’
অনিমা অভিমান ভরে বলল, ‘প্রভু, আপনি ভালো করেই জানেন যে আপনি দিয়েছেন। দেওয়ার সময় মিষ্টি মিষ্টি যে কথাগুলো বলেছিলেন, উপহারগুলো তাতে আরও মহার্ঘ হয়ে উঠেছিল আমার কাছে। এখন সুবাস শেষ, ফিরিয়ে নিন। উপহার যে দেয়, সে যদি নির্দয় বলে প্রমাণিত হয়, তখন যতই মূল্যবান হোক উপহার, তার মূল্য কী থাকে আর?’

শেষ দিকে অনিমার গলা ভারী হয়ে আসে বেদনায়, কান্না জমে যায় তার কণ্ঠজুড়ে। কঠোর হতে হতে তার কণ্ঠ পিছলে যেতে থাকে বেদনায়। পাছে ‘রাধিকা লইয়া বড়ায়ি গেলি ঘর!’ দেবতা কৃষ্ণের মতো যুবরাজ হ্যামলেটও যে উদাসীন, অমনোযোগী। তিনিও উপেক্ষা করেন, অবহেলায় ভুলে যান সহচরীকে। নির্দয় হন, ফিরে যান। অনিমা এ বেদনা কত কতবার সয়েছে! কৃষ্ণ তাকে ছেড়ে চলে গেছেন বারবার।
সহ-অভিনেতাদের হাততালির শব্দে অনিমার ঘোর ভাঙে। আনিস জুবের তার দুকাঁধ ধরে ঝাঁকান, ‘বাহ্‌, চমৎকার অনিমা! তোমার এক্সপ্রেশন দারুণ! দারুণ! আর তোমার গলায় বেদনা তো দারুণ খেলে!’
আনিস তারপর রজতদার দিকে তাকিয়ে হাসলেন, ‘দেখলেন দাদা? এ জাত অভিনেত্রী!’

ফেরার পথে চিশতী রিকশায় বসে অনিমার হাত দুটো তুলে মুখের কাছে এনে আলতো চুমু খেয়ে বলল, ‘উফ, কত দিন ধরে এ দিনটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম! অনিমা, তোমাকে ওই শাড়ির দোকানে একদম মানায় না। মনে হয় যেন কুঞ্জবন ছেড়ে এক গোপী বনের মধ্যে পথ হারিয়ে ফেলেছে। তোমার আসল জায়গা এখানে। এই স্টেজে। তুমি অনেক ভালো করবে, অনিমা। আমি জানি।’
অনিমা হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে বলল, ‘কিন্তু অভিনয় করে কি পেট ভরবে?’
‘আরে, তুমি একদিন অনেক নাম করবে। একবার নাম হয়ে গেলে আর দেখে কে? টাকাপয়সা তখন পায়ের কাছে লুটাবে দেখো। আমাকে তখন ধার দিয়ো। এখন চলো, আমরা দিনটা সেলিব্রেট করি। তোমার প্রথম রিহার্সাল। চলো, রাজ্জাকের বিরিয়ানি খাই। আর বোরহানি।’
অনিমা বলল, ‘শীলা শুনলে খুব খুশি হবে। ওকেও ফোন করে আসতে বলি?’

Related articles

Recent articles

spot_img