29.9 C
New York

ভারতের কোচিং–রাজধানী কোটার অন্ধকার দিক

Published:

ভারতের কোচিং–রাজধানী কোটার অন্ধকার দিক

শুধু কোচিং সেন্টারগুলোরই সমালোচনা হচ্ছে, তবে শিক্ষার্থী ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে বেশি চাপ আসে পরিবারের কাছ থেকে। পরিবারে একজন চিকিৎসক বা একজন প্রকৌশলী থাকা উচ্চ মর্যাদার বলে মনে করেন ভারতীয়রা। অনেক মা–বাবা তাই কোটাকে সাফল্যের পথ হিসেবে দেখেন।

কোটায় কর্মরত একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নীনা বিজয়বর্গ বলেছেন, ‘আমি বলব, আমার দেখা বেশির ভাগ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ মা–বাবার অতিরিক্ত চাপ। যারা তাদের বাচ্চাদের বলে,  তোমাকে যেকোনো মূল্যে জিততে হবে, পারতে হবে। সাফল্য প্রায়ই এই শিশুশিক্ষার্থীদের জন্য জীবন বা মৃত্যুর বিকল্পের মতো উপস্থাপন করা হয়।’

নীনা বিজয়বর্গ বলেন, অনেক অভিভাবকের কাছে ব্যর্থতার জন্য কোনো জায়গা নেই, তাই নম্বরের জন্য শিক্ষার্থীরা নিজেদের অনুভূতি, আবেগ—সবকিছু বাদ দিয়ে পড়াশোনা করেন।

মেডিকেল কলেজের ভর্তির জন্য কোটায় কোচিং করছিল ঝাড়খন্ডের ১৭ বছর বয়সী এক মেয়েশিক্ষার্থী। গত সেপ্টেম্বরে সে আত্মহত্যা করে। পুলিশ জানায়, ‘আমরা দেখেছি যে মেয়েটি প্রায়ই ডায়েরি লিখত। সে লিখেছিল, “আমি সফল না হয়ে কোটা ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরে আমার সব শেষ হয়ে যাবে। আমি জানি যে আমি চলে গেলে আমার মা দুঃখ পাবে এবং হতাশ হবে।’

ওই পড়া কিশোরীর ভালো লাগছিল না। কিশোরীর বাবা স্বীকার করেছেন, তিনি ‘বারবার মেয়েকে বাড়িতে আসতে বলেছিলেন। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আমার স্ত্রী চায়নি যে সে কোটার কোচিং স্কুল থেকে বাদ পড়ুক এবং বাড়ি ফিরে আসুক। সে (স্ত্রী) ফোনে আমার মেয়েকে বলেছিল যে আমরা কোটায় তার পড়াশোনার জন্য প্রায় ১০ লাখ রুপি খরচ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অ্যালেনের মতো বড় বড় কোচিং স্কুল তাদের ক্যাম্পাসে ৫০ জনের বেশি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শদাতা ছাড়াও ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু রাখেন। নীনা বিজয়বর্গ বলেছিলেন, মানসিক স্বাস্থ্য ও বিষণ্নতার লক্ষণগুলো প্রায়ই শিক্ষার্থীদের পিতামাতারা উপেক্ষা করেন। যে কয়েকজন ছাত্র বা ছাত্রী প্রাইভেট ক্লিনিকে পরামর্শ নিতে যান, তাঁরা প্রায়ই মাথার স্কার্ফ, মুখ ঢেকে সানগ্লাস পরে ছদ্মবেশে যান।

মেয়েরা বিশেষভাবে ভয় পান,  মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গেছেন—এ কথা জানাজানি হলে তাঁদের বিয়ের ক্ষেত্রে ঝামেলা হতে পারে।

কোটার কোচিং স্কুলগুলোর বছরের ফি প্রায় দেড় লাখ রুপি। এর সঙ্গে খাবার ও থাকার জন্য মাসে প্রায় ৩০ হাজার রুপি খরচ হয়। ফলে অনেক অভিভাবককে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে অনেক আত্মত্যাগ করতে হয়।

বড় বড় কোচিং সেন্টার ভারতের বড় বড় শহরে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করেছে। ১১ বছর থেকেই প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতির জন্য এসব কোচিংয়ে ভর্তি হতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উৎসাহিত করা হয়।

মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলির একটি দরিদ্র গ্রামের কৃষক কেদার কোর্দে। গত বছর তাঁর একমাত্র সম্বল খেতের জমি বিক্রি করে পরিবারসহ কোটায় গেছেন। লক্ষ্য ১৪ ও ১৭ বছর বয়সী দুই ছেলেকে অ্যালেন কোচিংয়ে পড়ানো।

Related articles

Recent articles

spot_img