19.5 C
New York

বুয়েটে ছাত্রলীগের ‘নিশি’ অভিযান কেন?

Published:

যেই ছাত্ররাজনীতি হওয়ার কথা ছাত্রদের কল্যাণে, সেই ছাত্ররাজনীতিই হলের ভেতরে একজন শিক্ষার্থীর জীবন কেড়ে নিল। এই রাজনীতি কোনোভাবে কাম্য হতে পারে না। বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়ে থাকলে সেজন্য আর কাউকে দায়ী করা যাবে না। একমাত্র ছাত্রলীগই দায়ী। ছাত্রলীগের অপরাজনীতির কারণে কেবল আবরার ফাহাদ খুন হননি, ছাত্রলীগের ২৫টি সম্ভাবনাময় তরুণের জীবনও নষ্ট হলো।

আবরার খুনের দায়ে ছাত্রলীগের ২০ নেতা–কর্মীর মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। এদের বাবা–মা সন্তানকে পাঠিয়েছিলেন প্রকৌশলী বা স্থপতি বানাতে। কিন্তু আজ তারা খুনের মামলার দণ্ডিত আসামি।

যেই ছাত্র রাজনীতি ২৫জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে খুনের মামলার আসামি করে, সেই রাজনীতি কারও কাম্য হতে পারে না। আবরার হত্যার পর প্রথম আলোতেই লিখেছিলাম: লাশ ও খুনি তৈরি করা ছাত্ররাজনীতি। যেই রাজনীতি লাশ ও খুনি তৈরি করে, সেই রাজনীতি চলতে পারে না। নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি কিংবা মৌলিক অধিকারের নামে হত্যার ছাড়পত্র দেওয়া যায় না।

কেবল বুয়েট নয়, ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন হন আবুবকর নামের এক সাধারণ শিক্ষার্থী। তিনি ছিলেন এক দিনমজুরের সন্তান। এ ঘটনায় এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাইদুজ্জামান ফারুকসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় শাহবাগ থানার পুলিশ। কিন্তু মামলার রায়ে ২০১৭ সালের ৭ মে ছাত্রলীগের সাবেক ১০ নেতা-কর্মীর প্রত্যেককে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। ওই রায়ের পর প্রথম আলোয় লিখেছিলাম, ‘আবু বকরকে কেউ খুন করেনি।’

২০১০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলে শিবির কর্মীদের হাতে খুন হন ছাত্রলীগের কর্মী ফারুক। তাঁর লাশ পড়ে ছিল ম্যানহোলের ভেতরে। একই কায়দায় লতিফ হলের ডাইনিংয়ের পাশের ড্রেনে পাওয়া যায় লিপু নামের ছাত্রলীগের আরেক কর্মীর লাশ। কোনোটির বিচার হয়নি। ফারুক হত্যায় পুলিশ অভিযোগপত্র দিলেও লিপু হত্যার তদন্তই শেষ হয়নি। সরকারের শিবিরবিরোধী রাজনীতির নমুনা বটে।

Related articles

Recent articles

spot_img