11.2 C
New York

বিনয় সম্পর্কে আল্লাহ ও রাসুল (সা.) যা বলেন

Published:

বিনয় মানবজীবনের অনন্য সৌন্দর্য। বিনয়ী মানুষকে সবাই ভালোবাসে। বিনয়ের মাধ্যমে সহজে ভালোবাসার বন্ধন তৈরি হয়। পবিত্র কোরআনে বিনয়ীদের আল্লাহর বন্ধু বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আছে, ‘তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও বিশ্বাসীরা, যারা নামাজ কায়েম করে জাকাত দেয় ও বিনত থাকে।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৫৫)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যিনি আল্লাহর জন্য বিনয়ী হন, আল্লাহ তাঁকে মর্যাদাবান করেন। তখন তিনি নিজের চোখে তুচ্ছ হলেও মানুষের চোখে অনেক বড় বিবেচিত হন।’ (বায়হাকি, হাদিস: ৭,৭৯০)

যিনি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিনয় প্রকাশ করেন, তাঁর কথাবার্তা, ওঠাবসা, হাঁটাচলায় মার্জিত ভাব আসে। পবিত্র কোরআনে আছে, ‘আর তাঁরাই করুণাময়ের (রহমানের বান্দা) যাঁরা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করেন এবং অজ্ঞ ব্যক্তিরা তাঁদের সম্বোধন করেন তখন তাঁরা বলেন শান্তি।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত: ৬৩)

তাঁরা অন্যের কটু কথা ও গালাগালের জবাব মন্দ কথায় না দিয়ে ভদ্র ভাষায় বিনয়ের সঙ্গে দিয়ে থাকেন।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক আদম সন্তানের মাথার পেছনে একজন বিশেষ ফেরেশতা থাকেন। তাঁর হাতে থাকে একটি হাকামাহ নামের বিশেষ বস্তু। যখনই বান্দা বিনয় অবলম্বন করে, তখন ওই ফেরেশতাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়, হাকামাহ ওঠাও। অর্থাৎ তাঁর মর্যাদা বাড়িয়ে দাও। আর যখনই বান্দা অহংকার করেন, তখন বলা হয় হাকামাহ ছেড়ে দাও। অর্থাৎ তাঁকে অপমানিত করো।’ (সিলসিলাহ সহিহা: ৫৩৫)

বিনয় ও নম্রতার আদেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘তুমি মাটিতে দেমাক করে পা ফেলো না। তুমি মাটিও ফাটাতে পারবে না, পাহাড়ের সমান উঁচুও হতে পারবে না।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৩৭)

নবী করিম (সা.)–এর আচরণ ছিল বিনয় ও নম্রতার অনন্য উদাহরণ। হাদিসে আছে, ‘তিনি ছিলেন সুবিশাল হৃদয়ের মহানুভব। সত্যবাদিতায় সর্বাগ্রে, নম্রতা আর কোমলতায় অনন্য, আচার-আচরণে অভিজাত। যিনি প্রথম তাঁকে দেখতেন, ভয় করতেন। কিন্তু যিনি তাঁর সঙ্গে মিশতেন, তাকে ভালোবাসতে শুরু করতেন।’ (জামে তিরমিজি)

Related articles

Recent articles

spot_img