14.2 C
New York

বাল্যবিবাহের শিকার কিশোরীরা কেন ঝরে পড়বে

Published:

বাংলাদেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে। আমরা অর্থনৈতিকভাবে ‘উন্নত’ দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার সর্বাধিক এবং বিশ্বে সর্বোচ্চ ১০টি দেশের মধ্যে আমাদের অবস্থান। এ অবস্থা বজায় রেখে কি আমরা নিজেদের ‘উন্নত’ বলে দাবি করতে পারব?

বাল্যবিবাহ নিরসনে সরকারি-বেসরকারি কার্যক্রমে আরও গতি আনার বিকল্প নেই। পাশাপাশি বিবাহিত মেয়ে ও কিশোরী মায়েদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়া তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য জরুরি।

এ জন্য যা যা করণীয়:

১. শিক্ষা, বাল্যবিবাহ ও কিশোরী স্বাস্থ্যের জন্য বিদ্যমান নীতিমালায় বিবাহিত মেয়ে ও কিশোরী মায়েদের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা।

২. স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করা, যাতে বিদ্যালয়ে গর্ভবতী কিশোরীদের শনাক্ত করা যায় এবং তাদের জন্য প্রসব–পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

৩. ঝরে পড়া কিশোরী বধূ ও মায়েদের খুঁজে বের করার জন্য ব্যবস্থা থাকা দরকার। সন্তান জন্মদানের পর তাদের বাড়িতে গিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরতে উৎসাহিত করতে হবে। শিক্ষকেরা এই দায়িত্ব নিতে পারেন।

৪. শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে অথবা অন্য কোনোভাবে কিশোরী মায়েদের সন্তানের যত্নে সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। তাহলে তারা বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশোনায় অংশ নিতে পারবে।

৫. কিশোরী বধূ ও মায়েদের শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে মা-বাবা, শ্বশুরবাড়ির লোকজন এবং সমাজের সবার সচেতনতা বাড়ানো দরকার। তাদের পড়াশোনা করার অধিকার সম্পর্কে শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসক এবং শিক্ষার্থীদের সংবেদনশীলতা বাড়াতে হবে।

লায়লা খন্দকার উন্নয়নকর্মী

Related articles

Recent articles

spot_img