8.1 C
New York

বাইডেন যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের গভীরে নিয়ে যাচ্ছেন

Published:

ইরানে বিপ্লব মাথাচাড়া দেওয়াসহ ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের হামলা চালানোর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্য উপসাগরে প্রভাব বিস্তারে সামরিক শক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্র অত্যধিক নির্ভর করে আসছে। এ পটভূমিতে অনেক মার্কিন রাজনীতিবিদ ও পণ্ডিতই ইরানে সরকার পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পক্ষে। অনেক মার্কিন নেতাই ১৯৭৯ সালে ইরানে আমাদের নাগরিকদের জিম্মি পরিস্থিতির কথা ভুলে যাননি এবং সে সময় থেকেই তাঁরা পাল্টা আঘাত হানতে চেয়েছেন। যেমন অবসরপ্রাপ্ত মেরিন জেনারেল অ্যান্থনি জিনি একবার মন্তব্য করেছিলেন, ‘আপনি যদি ইরাককে পছন্দ করেন, তবে আপনি ইরানকেও ভালোবাসবেন।’

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থ রক্ষার জন্য দুটি পদক্ষেপ অপরিহার্য। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতির জন্য ইসরায়েলকে চাপ দিতে হবে। ইসরায়েলকে চাপ দেওয়ার একমাত্র উপায় হলো মার্কিন অস্ত্র হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রকৃত শর্ত আরোপ করা অথবা ওয়াশিংটন যে প্রাণঘাতী ব্যবস্থা সরবরাহ করে, তা বন্ধ করা।

ইসরায়েলের ব্যাপারে প্রভাবের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বেসামরিক হাতিয়ার নেই, তাই সামরিক সহায়তাই আমাদের লাভের একমাত্র উৎস। দ্বিতীয়ত, ইরানের সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরুর সময় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক উইলিয়াম বার্নসের ইরানি নেতাদের সঙ্গে দেনদরবার করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। স্পষ্টতই তিনি বাইডেন প্রশাসনের সবচেয়ে কার্যকর কূটনীতিক। ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কূটনৈতিক কার্যকলাপ সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মতো গুরুত্বপূর্ণ আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনায় সীমাবদ্ধ, যা কোথাও নিয়ে যাচ্ছে না। উপরন্তু এসব আলোচনার মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনার বিষয়টি, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একটি ঢাল যুক্ত করবে।

এসব অগ্রগতি এমনকি ‘আরব ন্যাটো’ গঠনের জন্য নতুন করে আলোচনার দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা ট্রাম্প ও তাঁর তৎকালীন আক্রমণাত্মক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন শুরু করেছিলেন। বাইডেন প্রশাসন সম্ভবত এই অঞ্চলে সামরিক শক্তির সীমা বুঝতে পারে, তবে ইরানের সঙ্গে সংঘাত ও নেতানিয়াহুর প্রতি অব্যাহত সমর্থনের বিষয়টি কেবল অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন করার দিকে নিয়ে যেতে পারে। এর শেষ পরিণতি হবে যুক্তরাষ্ট্রকে আটকে মধ্যপ্রাচ্যে রাখা নিজেদের কাঁটাঝোপে আটকে থাকা।

Related articles

Recent articles

spot_img