12 C
New York

বাংলাদেশ–ভারত নৌপথে রাতেও নৌযান, বিপদে সুন্দরবন

Published:

অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে চলাচল

জীববৈচিত্র্যের প্রাচুর্যের জন্য ১৯৯২ সালে সুন্দরবনকে রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্মান দেয় ইউনেসকো। এ নৌপথের মধ্যে পানখালী, ঢাংমারী, শিবসা বন্য প্রাণী (ডলফিন) অভয়ারণ্য ও সুন্দরবন পশ্চিম বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য পড়েছে। যেখানে বিপন্ন ইরাবতী ও গাঙ্গেয় ডলফিনের বাস। অতিরিক্ত নৌযান চলাচল ডলফিন বিপন্ন হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন, ২০১২ অনুযায়ী, বিপন্ন প্রাণীর বসতি এলাকায় তাদের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজননের ক্ষতি হয়—এমন কাজ করা নিষিদ্ধ।

ডলফিন সংরক্ষণ অ্যাকশন প্ল্যানের জাতীয় পরামর্শক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল আজিজ বলেন, সুন্দরবন ইরাবতী ডলফিনের শেষ আশ্রয়। গাঙ্গেয়, বোতল নাকসহ আরও কয়েকটি প্রজাতির ডলফিনের আবাসস্থল সুন্দরবন। সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও সংবেদনশীল প্রতিবেশব্যবস্থার কারণে সুন্দরবনে এমনিতেই যন্ত্রচালিত নৌযান চলাচল ক্ষতিকর। বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, ডলফিন ও কুমিরের মতো প্রাণীরা জাহাজ চলাচলের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের চেয়ে রাতে ক্ষতির পরিমাণ বেশি। কারণ, এই সময়ে প্রাণীরা বিশ্রাম নেয়। রাতে বিকট শব্দ, ধোঁয়া ও ঢেউয়ের কারণে প্রাণীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। বন আইন, বন্য প্রাণী সুরক্ষা আইন এবং সুন্দরবন পর্যটনবিষয়ক নীতিমালা অনুযায়ীও এই বনে রাতে কোনো ধরনের মানুষ বা যন্ত্রচালিত যান চালানো নিষিদ্ধ।

Related articles

Recent articles

spot_img