15.4 C
New York

বাংলাদেশ কিসিঞ্জারের ‘বাস্কেট কেস’ মন্তব্য মিথ্যা প্রমাণ করেছে

Published:

সুগত বসু: আমি ২০১৪ সালে ভারতবর্ষের পার্লামেন্টে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হলাম। যে কেন্দ্র থেকে আমার মা কৃষ্ণা বসু আরও তিনবার লোকসভার সদস্যা নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি পাঁচ বছর ছিলেন আমাদের পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটির পররাষ্ট্রনীতির চেয়ারপারসন। আমিও সে কমিটির সদস্য হয়েছিলাম। প্রথমেই যেটা আমাদের কাছে এল, ‘ল্যান্ড বাউন্ডারি অ্যাগ্রিমেন্ট’ বিষয়ে আমাদের সংবিধান সংশোধনীর বিলের খসড়া। আমরা যদিও বিরোধী পক্ষে ছিলাম, কিন্তু অন্যান্য বিষয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে বিরোধিতা থাকলেও এ বিষয়ে আমরা একমত হয়েছিলাম।

এর আগে ৪০ বছর ধরে ভারতের পার্লামেন্ট এটা অনুমোদন (র‍্যাটিফাই) দেয়নি। তখন আমি জোর দিয়ে নিজের দলের নেত্রীর সঙ্গে কথা বললাম। দেখলাম এটি করতে হলে সংবিধান সংশোধনের বিল পাস হতে হবে। যার জন্য দরকার দুই-তৃতীয়াংশ ভোট। আমরা সেটা করতে পারলাম। আমি তখন বলেছিলাম, আমাদের জাতীয় স্বার্থেই প্রয়োজন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করা। বিশেষ করে এই ছিটমহলে থাকা হতদরিদ্র মানুষ, যারা শিক্ষার সুযোগ পায় না, স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা নেই, তাদের জন্য এটি কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।

এই রিপোর্ট আমরা কমিটিতে গ্রহণ করলাম। তখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রেখে চলেছি। ভারতবর্ষের পার্লামেন্টে এই একটি বিল সর্বসম্মতিক্রমে
পাস হয়।

তখন তিস্তা নিয়েও কথা হয়েছে। আমার মনে হয়, তিস্তা নিয়ে আলাপ অনেক এগিয়েছে। পার্লামেন্টে থাকতেই আমার ইচ্ছা ছিল, তিস্তার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমাধান হোক। সেটা তখন করতে পারিনি। আমি সব সময়ই কীভাবে ভারত-বাংলাদেশ এবং দুই বাংলার মধ্যে সম্পর্ক ভালো করা যায়, তা নিয়ে সচেষ্ট হয়েছি।

আমাদের একটু অন্যভাবে চিন্তা করতে হবে। পশ্চিম বাংলা হোক বা বাংলাদেশ, আমরা যদি এশিয়া বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব এশিয়ায় এই বঙ্গোপসাগর দিয়ে আরও নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন করতে পারি, তাহলে দুদিকেরই অর্থনৈতিক উন্নতি আরও প্রশস্ত হবে।

Related articles

Recent articles

spot_img