11.9 C
New York

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সংস্কার নিয়ে মন্ত্রীর সামনে বাফুফের তীব্র ক্ষোভ

Published:

এগুলো আসলে হকি মাঠের স্প্রিংকলার। কয়েক মাস আগেই এনএসসি এগুলো বদলে দেবে বলেছিল। কিন্তু কোনো অগ্রগতি নেই। তা ছাড়া মাঠের পারপাশে ঢালাই করা জায়গায়টায় রাবার দিয়ে বর্ডার করে ঢেকে দিতে বলেছে বাফুফে।

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বাফুফের সঙ্গে আলোচনা না করেই কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে কারণে এসব সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফিফা অনুমোদিত স্টেডিয়াম কীভাবে তৈরি হয়, সেটার ম্যানুয়াল আমরা তাদের পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সেই অনুযায়ী কাজ হয়নি।’

ক্রীড়া সাংবাদিকেরাও ক্রীড়ামন্ত্রীকে পেয়ে নানা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কারণ, নতুন প্রেস বক্সের সামনে চারটা বড় পিলার! ফলে পুরো মাঠ দেখা যায় না। ক্যামেরাম্যানরা কোথায় দাঁড়াবেন, সেই জায়গা নেই। প্রেসবক্স করার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গেও এনএসসি বসেনি। পুরো প্রকল্পটা এনএসসি তাদের মতো তৈরি করেছে। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে থাকা যুব ও ক্রীড়াসচিব মহিউদ্দিন আহমেদ স্বীকার করেন, কিছু সমন্বয়ের অভাব ছিল। যে কারণে এসব সমস্যার উদয় হয়েছে।

পরে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, ‘আজ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রথম এলাম দেখতে। এসে কিছু কথা শুনলাম। কী কী সমস্যা আছে জানলাম। দুটি মূল সমস্যা। একটি স্প্রিংকলার ও আরেটি মিডিয়া রুম। সমস্যা আছে, অস্বীকার করার উপায় নেই।’ তারপর যোগ করেন, ‘এ থেকে কোনো কিছু করা সম্ভব কি না, সেটা দেখব। ওনাদের সাথে বসে কথা বলব। যদি সম্ভব হয়, অবশ্যই করব। খুব একটা অসম্ভব মনে হয় না। কিছু একটা তো করতেই পারব। সব না পারলেও বেশির ভাগই করতে পারব।’

মন্ত্রী বলেছেন, ‘ওনাদের কাছ থেকে ডকুমেন্টস না পেলে কমেন্টস করা ঠিক হবে না। এখন একটা কথা বললে হয় এনএসসির ওপর পড়বে, না হয় যারা আমাদের কনসালট্যান্ট অথবা ফুটবল ফেডারেশন…কাজেই কাগজপত্র না দেখে কমেন্টস করা ঠিক হবে না। সমস্যা এখনো আছে। এটাকে নিরসন করা সম্ভব হলে অবশ্যই করব। বড় কোনো সমস্যা থাকলে সেটা দূর করার চেষ্টা থাকবে।’

আগামী দিনে যাতে সমস্যা না হয়, দিয়েছেন সেই টোটকাও, ‘আগামী দিনে কোনো স্থাপনা সংস্কার বা নতুন কিছু করলে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের সঙ্গে বসে পরিকল্পনা করতে হবে। পরিকল্পনায় সবাই সই করতে হবে। একবার অনুমোদন হয়ে গেলে এ নিয়ে আর কোনো কথা বলার উপায় থাকবে না।’

মন্ত্রী কথা বলেছেন প্রেসবক্স নিয়েও, ‘প্রেসবক্স নিয়ে যে সমস্যার কথা বলেছেন, এটা তো আগেই মাথায় আসা উচিত ছিল। প্রথম যখন দেখলাম, এ রকম পিলার তো সাধারণত কোথাও দেখিনি। কিন্তু যেটা হয়ে গেছে, বদল করা গেলে করব। না হয় এ রকমই থাকবে। ভবিষ্যতে যেন না হয়, সেই চেষ্টা করব। কিন্তু বদলের কথা বলে আরও এক–দুই বছর বাড়ানো ঠিক হবে না।’

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সংস্কার শুরু হয় ২০২১ সালের আগস্টে। অথচ এখনো স্টেডিয়ামের ভেতর ঢুকলে অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক আর এক পাশে ছাদ তৈরি ছাড়া দৃশ্যমান কোনো উন্নতি নেই। তা স্টেডিয়ামের অগ্রগতি দেখে মন্ত্রী কি সন্তুষ্ট? নাজমুল হাসান সরাসরি উত্তর দেননি, ‘অগ্রগতি নিয়ে জানি না। দেখতে হবে এই সময় পর্যন্ত কতটুকু হওয়ার কথা ছিল, কতটুকু হয়েছে, সেটা আমি দেখিনি।’

Related articles

Recent articles

spot_img